রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের অবিশ্বাস্য রাত!

রাওয়ালপিন্ডিতে রেকর্ডের অবিশ্বাস্য রাত!

ছক্কার বৃষ্টি, রেকর্ডের পর রেকর্ড আর ব্যাটারদের তাণ্ডবে রাওয়ালপিন্ডিতে রচিত হলো ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও অবিশ্বাস্য এক অধ্যায়। হ্যারি ব্রুকের চোখধাঁধানো ডাবল সেঞ্চুরি আর ইংল্যান্ডের রানের পাহাড়—সবকিছুকে আড়ালে ঠেলে দিয়ে শেষ হাসি হাসল শ্রীলঙ্কা। ৪৩০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড গড়ে স্মরণীয় জয় তুলে নিয়েছে লঙ্কানরা। দুই দলের ব্যাটারদের এমন তাণ্ডবে ম্যাচে মোট উঠেছে ৮৫৯ রান, যা ওয়ানডে ইতিহাসে এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের নজির।

বিজ্ঞাপন

ব্রুকের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরি

রাওয়ালপিন্ডিতে ম্যাচের মূল আকর্ষণ ছিলেন ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি ব্রুক। শ্রীলঙ্কান বোলারদের রীতিমতো তছনছ করে মাত্র ১১৪ বলে ওয়ানডে ইতিহাসের দ্রুততম ডাবল সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড গড়েন তিনি। গত মাসেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১১৭ বলে ডাবল সেঞ্চুরি করে রেকর্ডটি গড়েছিলেন ভারতের শুভমান গিল, যা এক মাসের মাথায় ভেঙে দিলেন ব্রুক।

ইংল্যান্ডের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ওয়ানডেতে ডাবল সেঞ্চুরির (২০২ রান) ইতিহাস গড়েন তিনি। ইনিংসের চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে এত রান করার নজির ক্রিকেট ইতিহাসে আর নেই। এমনকি পেসারদের বিপক্ষে মাত্র ৯০ বলে ১৭৪ রান করার নতুন এক রেকর্ড গড়েছেন তিনি (আগের রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার ১৬৬ রান)। অধিনায়ক হিসেবেও ডাবল সেঞ্চুরি করা চতুর্থ ব্যাটসম্যান তিনি (শেবাগ, রোহিত ও গিলের পর)। তবে এত রেকর্ডের পরও পরাজয়ের ট্র্যাজেডি সঙ্গী হয়েছে তার; ওয়ানডে ইতিহাসে পরাজিত দলের হয়ে সর্বোচ্চ ২০০+ রানের প্রথম ইনিংস এখন ব্রুকের।

পাকিস্তানের মাটিতে প্রথম ৪০০+

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪২৯/৪ রান সংগ্রহ করে ইংল্যান্ড, যা পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে প্রথম ৪০০ ছাড়ানো দলীয় সংগ্রহ (আগের সর্বোচ্চ ২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৩৭৫/৩)। ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে চার মেরেছে মোট ৯৩টি (ইংল্যান্ড ৪৮, শ্রীলঙ্কা ৪৫), যা ওয়ানডে ইতিহাসের এক ম্যাচে সর্বোচ্চ চারের রেকর্ড (আগের রেকর্ড হয়েছিল ২০০৬ সালে জোহানেসবার্গে- ৮৭টি চার)। এছাড়া দুই দলের অন্তত ৮ জন ব্যাটার ফিফটি বা তার বেশি রান করেছেন, যা যৌথভাবে এক ম্যাচে সর্বোচ্চ।

শেষ ২৫ ওভারের অলৌকিকতা

৪৩০ রানের বিশাল পাহাড় ডিঙাতে নেমে ২৫ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার রান ছিল ১৬৯/২। জয় থেকে তখনো তারা ২৬১ রান দূরে ছিল। ওয়ানডে ইতিহাসে শেষ ২৫ ওভারে এত রান তাড়া করে জেতার কোনো নজির নেই। ২০১১ বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ড ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ২৫ ওভারে ২১৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল, সেই রেকর্ড ভেঙে দিল শ্রীলঙ্কা। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার ৪৩৫ রান তাড়া করার পর এটিই ওয়ানডে ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার কীর্তি।

কারস্টেনের রেকর্ড ভাঙার দৃশ্য

১৯৯৬ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের মাটিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস (১৮৮*) খেলেছিলেন গ্যারি কারস্টেন। শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে ডাগআউটে বসে ব্রুকের ব্যাটে (২০২) নিজের ৩০ বছরের পুরোনো সেই রেকর্ড ভাঙতে দেখেন তিনি।

স্যাম কারেনের লজ্জার সেঞ্চুরি

ইংল্যান্ডের পেসার স্যাম কারেন ১০৩ রান খরচ করেন, যা পুরুষদের ওয়ানডেতে কোনো ইংলিশ বোলারের সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার রেকর্ড। ২০২৩ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯৮ রান দিয়ে আগের রেকর্ডটিও ছিল তার নিজের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন