প্রায় ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা রাষ্ট্রের’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করে। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও আর্থিক বিধিনিষেধের মধ্যে থাকা সিরিয়ার অর্থনীতির সামনে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সুযোগ তৈরি হলো।
১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। প্রায় পাঁচ দশক পর দেশটির নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের উন্নতির মধ্যে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তটি এলো।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সিরিয়ার নতুন সরকার আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ থেকে নিজেদের দূরে রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পদক্ষেপ বিবেচনায় নিয়েই সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত জুলাইয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ার ওপর থেকে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। এবার সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্রের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ায় দেশটির আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থায় পুনরায় যুক্ত হওয়ার পথ আরও সহজ হলো। বিদেশি ব্যাংক ও বিনিয়োগকারীদের সিরিয়ায় ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে সিরিয়ার সাবেক বিদ্রোহী সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) ওপরে থাকা মার্কিন সন্ত্রাসী সংগঠনের তকমাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। সংগঠনটি একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং বর্তমান সিরীয় প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বে ছিল।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা এ সিদ্ধান্তকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দামেস্কের আশা, এর ফলে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কাজ দ্রুত হবে।
সিরিয়া ২০১১ সাল থেকে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকারের পতনের পর দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্ক পরিবর্তন হতে শুরু করে। বর্তমানে ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের চেষ্টা করছে।
সিরিয়াকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ তালিকায় এখন রয়েছে ইরান, উত্তর কোরিয়া ও কিউবা।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই, রয়টার্স, আল-জাজিরা ও আল-মনিটর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


