তারেমির পেনাল্টি মিসে কঠিন সমীকরণে ইরান

স্পোর্টস ডেস্ক

তারেমির পেনাল্টি মিসে কঠিন সমীকরণে ইরান

বিশ্বকাপের ইতিহাসে কখনোই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি ইরান। এবারও সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ এসেছিল। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ খেলতে এসে শেষ ম্যাচে মিশরকে হারাতে পারলেই ইতিহাস গড়তে পারত এশিয়ার দলটি। কিন্তু পেনাল্টি মিস, ভিএআরের সিদ্ধান্তে বাতিল হওয়া গোল আর শেষ মুহূর্তের দুর্ভাগ্য—সব মিলিয়ে জয় অধরাই থেকে গেল ইরানের। ফলে ১-১ গোলে ড্র করে নকআউটে ওঠার ভাগ্য এখন অন্য গ্রুপের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে তাদের।

সিয়াটলে অনুষ্ঠিত ‘জি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরুতেই ধাক্কা খায় ইরান। ম্যাচের মাত্র পঞ্চম মিনিটে মোহাম্মদ সালাহর শট গোলরক্ষক আলিরেজা বেইরানভান্দ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারায় ফিরতি বলে হাসান সহজেই জাল খুঁজে নেন। শুরুতেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিশর।

তবে দ্রুত সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল ইরান। ১১তম মিনিটে মেহদি তারেমি পেনাল্টি পেলেও তার ডান কোণে নেওয়া শট দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি। ফলে হতাশা বাড়ে ইরানের শিবিরে।

অবশ্য সেই হতাশা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ১৪তম মিনিটে মোহাম্মদির দূরপাল্লার শট গোলরক্ষক ঠেকালেও ফিরতি বলে রেজাইয়ান জালে বল পাঠিয়ে ম্যাচে সমতা ফেরান।

পুরো ম্যাচে মাত্র ৩৮ শতাংশ বল দখলে রেখেও আক্রমণে ছিল বেশি কার্যকর ইরান। রক্ষণে ৫-৪-১ ছকে খেললেও পাল্টা আক্রমণে মেহদি তারেমি, সাঈদ এজাতোলাহি ও মোহাম্মদ মোহেব্বির সমন্বয়ে বারবার মিশরের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা।

শেষ দিকে জয়ের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ইরান। ৮৯তম মিনিটে কর্নার থেকে তারেমির শক্তিশালী হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ইনজুরি সময়ে খলিলজাদেহ বল জালে পাঠালেও ভিএআরে অফসাইড ধরা পড়ায় গোল বাতিল করে দেন রেফারি। গোল উদযাপনের জন্য পরে হলুদ কার্ডও দেখতে হয় তাকে।

শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগে আরেকটি কর্নার থেকে এজাতোলাহির প্রচেষ্টা পোস্টে লেগে ফিরে এলে হতাশাই সঙ্গী হয় ইরানের।

এই ড্রয়ে তিন ম্যাচ থেকেই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছে ইরান। তিনটি ড্রয়ে তাদের সংগ্রহ তিন পয়েন্ট। অন্যদিকে মিশর চার পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপের রানার্সআপ হিসেবে নকআউট নিশ্চিত করেছে। একই গ্রুপে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে হারিয়ে সাত পয়েন্ট নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বেলজিয়াম।

এখন শেষ ৩২-এ জায়গা করে নিতে হলে তৃতীয় সেরা দলগুলোর হিসাবের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে ইরানকে। অন্য গ্রুপগুলোর ফল অনুকূলে এলেই কেবল প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হবে তাদের।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...