ব্রাজিলের সমর্থকরা এখন ব্রাজিলের প্রতিপক্ষ! কীভাবে—একটু খোলাসা করে বলি, ব্রাজিল ফুটবলের ঘোর সমর্থক দেশের নাম হাইতি। বিশেষ করে বিশ্বকাপের মঞ্চে যখন খেলতে নামে ব্রাজিলিয়ানরা, তখন আবেগ-উচ্ছ্বাসে একাকার হয় হাইতির মানুষ। এই দৃশ্যই ছিল চিরন্তন। এত দিন ধরে ব্রাজিলেই ফুটবলানন্দ খুঁজত হাইতি। কেননা তখন বিশ্বকাপে দর্শক ছিল তারা। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রিয় দল ব্রাজিলই আজ তাদের প্রতিপক্ষ। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলছে হাইতি। ব্রাজিলের বিপক্ষে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের এই দলটির মাঠে নামার ব্যাপারটি অনেকটাই ‘বন্ধু যখন শত্রু’ মতো অবস্থা দাঁড়িয়েছে।
ফিফা র্যাংকিংয়ে হাইতির অবস্থান ৮২তম। যেখানে ব্রাজিল রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। র্যাংকিংয়ে দুদলের ব্যবধান আকাশ-পাতাল। তবে ৯০ মিনিটের খেলা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাবে না। কেননা বিশ্বমঞ্চে মাঠের লড়াইয়ে ছোট-বড় দলের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য থাকে না। বড় দলের বিপক্ষে চোখে চোখ রেখেই লড়াই করে ছোট দলগুলো। এতে নতুন ইতিহাস আর রূপকথার জন্ম হয়। পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ফুটবলের চিরন্তন সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে আছে সেলেসাওরা। এবারের বিশ্বকাপেও ফেভারিট দল তালিকায় তাদের নাম রয়েছে। পরাশক্তি ব্রাজিলের মুখোমুখি হওয়া মানেই হাইতির জন্য কঠিন এক অগ্নিপরীক্ষার মতো। প্রতিপক্ষ শক্তিশালী হলেও অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার চেষ্টা করবে লড়াকু এই দলটি। দুদলের ম্যাচটি আগামীকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টা ম্যাচটি শুরু হবে। এ ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ে ফেরা নাকি ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়ে কোনো অঘটনের জন্ম দেয় হাইতি—সেটিই দেখার বিষয়।
বিশ্বকাপ শুরুর ম্যাচে চেনা ব্রাজিলকে দেখা যায়নি। মরক্কোর হাই-প্রেসিং ফুটবলের সামনে তাদের পাসিং ফুটবল ছিল ম্রিয়মাণ। ভিনিসিয়াস জুনিয়রের গোল আর গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারের নৈপুণ্যে মরক্কোর বিপক্ষে এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছেড়েছে তারা। তবে মরক্কো ম্যাচের ভুলগুলো নিয়ে অনেক কাজ করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। হাইতির বিপক্ষে স্বরূপেই ফিরতে মরিয়া তার দল। এ ম্যাচেও নেইমারের খেলা নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না। যদিও দলের সঙ্গে অনুশীলনে করছেন এই সুপারস্টার। তাই আক্রমণভাগে ভিনিসিয়াসকেই দায়িত্ব নিতে হবে। তার সঙ্গে থাকছেন দারুণ ফর্মে থাকা রাফিনহা। তবে ব্রাজিলের শক্তির জায়গা মাঝমাঠ গত ম্যাচে অতটা সৃজনশীল দেখা যায়নি। দুই উইংও শক্ত ছিল না। রক্ষণভাগ আগলে রাখার ক্ষেত্রে ব্রাজিলকে নড়েবড়ে দেখায়। এসব সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারলে হাইতির বিপক্ষে দুরন্ত ব্রাজিলকেই দেখা যাবে। কৌশলগত দিক বিবেচনা করলে হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হতে পারে ব্রাজিল। প্রথমার্ধেই গোল আদায় করে নেওয়া এবং পরে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে রাখাই হবে সেলেসাওদের মূল লক্ষ্য। কেননা পরের রাউন্ডে খেলার সমীকরণ মেলানোর জন্য হাইতির বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই ব্রাজিলের সামনে।
অন্যদিকে, শারীরিক সক্ষমতা, গতি আর হারানোর কিছু না থাকার মানসিকতাই হাইতি দলের মূল শক্তি। দলটি ভালো করেই জানে, ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে বল দখল রাখাটা অসম্ভব কাজ। তাই তাদের মূল কৌশল হবে রক্ষণভাগে ‘বাস পার্ক’ করা বা দলগতভাবে ডিফেন্ড করা এবং পাল্টা আক্রমণে ওপরে ওঠা। হাইতির আক্রমণভাগ ব্রাজিলের হাই-লাইন ডিফেন্সের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেট পিস কিংবা কর্নার—উভয় দিক থেকেই গোল করার ক্ষেত্রে বেশ পারদর্শী হাইতি। তাদের একটাই ঘাটতি, বিশ্বমঞ্চে বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার অভাব। তাই পুরো ম্যাচে ব্রাজিলের ফরোয়ার্ডদের ঠেকিয়ে রাখাটা তাদের জন্য কঠিন হবে। তবে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ শুরু হওয়া দলটিও জয়ের খোঁজে থাকবে।
অতীত রেকর্ডের দিকে তাকালে ব্রাজিলের পাল্লা শুধু ভারীই নয়, বরং একচেটিয়া। বড় টুর্নামেন্টে এই দুই দলের দেখা হওয়ার নজির কম। সর্বশেষ ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার মঞ্চে পরস্পরের মুখোমুখি হয়েছিল দুদল। ওই টুর্নামেন্টে ব্রাজিল ৭-১ গোলে হারায় হাইতিকে। এর আগে ২০০৪ সালে প্রীতি ম্যাচে ব্রাজিল ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করে তাদের। এর আগে ১৯৭৪ সালে আরেক প্রীতি ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ৪-০ গোলে জয়ের রেকর্ড রয়েছে ব্রাজিলের। বিশ্বকাপেও এই সাফল্যের ছন্দ ধরে রাখতে চাইবে ব্রাজিল।
ব্রাজিল বনাম হাইতিি
হেড টু হেড
ম্যাচ-৩
ব্রাজিলের জয়-৩
হাইতির জয়-০
দুদলের মুখোমুখি ফলাফল
৯ জুন ২০১৬ (কোপা আমেরিকা) : ব্রাজিল ৭-১ হাইতি
১৮ আগস্ট ২০০৪ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ) : হাইতি ০-৬ ব্রাজিল
২১ এপ্রিল ১৯৭৪ (আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ) : ব্রাজিল ৪-০ হাইতি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

