টাকার অঙ্কে চোখ ধাঁধিয়ে যাওয়ার জোগাড়! উত্তর আমেরিকার তিন দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর মেক্সিকোর মাটিতে বসছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফুটবল বিশ্বকাপ। শুধু মাঠের ফুটবল নয়, মাঠের বাইরের অর্থনৈতিক সমীকরণ নিয়েও শুরু হয়ে গেছে তুমুল আলোচনা। ফিফা ও বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) একটি যৌথ সমীক্ষা বলছে, এ বিশ্বকাপ থেকে তিন দেশের সম্মিলিত অর্থনৈতিক উৎপাদন (গ্রস ইকোনমিক আউটপুট) হতে পারে রেকর্ড আট হাজার ১০ কোটি ডলার!
তবে এই বিশাল অঙ্কের ভিড়েও রয়েছে বিতর্কের সুর। স্বাধীন অর্থনীতিবিদরা একটু মুচকি হেসে বলছেন, ‘কাগজে-কলমে সংখ্যাটা যত বড় দেখায়, বাস্তবে হয়তো ততটা ফলার সুযোগ নেই।’
টিকিট বিক্রি আর স্টেডিয়ামে দর্শকদের জন্য হটডগ বিক্রির প্রথাগত আয়ের বাইরেও বিশ্বকাপের একটি বিশাল অর্থনৈতিক বৃত্ত রয়েছে। ফিফা-ডব্লিউটিওর যৌথ সমীক্ষা অনুযায়ী এই মহাযজ্ঞ বৈশ্বিক জিডিপিতে সরাসরি অবদান রাখবে চার হাজার ৯০ কোটি ডলার। এছাড়া টুর্নামেন্ট আয়োজন বাবদ তিন দেশের সরকারের পকেটে কর হিসেবে জমা হবে প্রায় ৯৪০ কোটি ডলার।
উচ্ছ্বাসের মাঝেও মুদ্রার উল্টো পিঠ মনে করিয়ে দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ অব দ্য হলি ক্রসের স্পোর্টস ইকোনমিকসের অধ্যাপক ভিক্টর ম্যাথেসন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিউজউইককে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক লাভের অঙ্কটা প্রচারের চেয়ে অনেক কম হতে পারে। এর পেছনে আয়োজকদের আকাশচুম্বী খরচ আর টুর্নামেন্ট শুরুর অল্প সময় আগেও হাজার হাজার অবিক্রীত টিকিট থাকাকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন তিনি।
হিসাব-নিকাশ যা-ই হোক, লাভের সিংহভাগ যে ওড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেÑতা বলাই বাহুল্য। টুর্নামেন্টের মোট ম্যাচের মধ্যে সিংহভাগ (৭৮ ম্যাচ) আয়োজন করে মূল ফায়দা তুলবে যুক্তরাষ্ট্র। বাকি ২৬ ম্যাচের মধ্যে কানাডা ও মেক্সিকো পাবে ১৩টি করে।
শহরভিত্তিক আয়ের ক্ষেত্রে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত ‘সুপার বোল’ ইভেন্টের আয়কেও ছাড়িয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে লস অ্যাঞ্জেলেস। নিজেদের মাঠে হওয়া আট ম্যাচ থেকে শহরটি ৫৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার কামানোর আশা করছে। অন্যদিকে ডালাসের এটিঅ্যান্ডটি স্টেডিয়ামের ৯ ম্যাচ থেকে আয় হবে প্রায় ৪০ কোটি ডলার।
এই বিশাল আয়োজন বিশ্বজুড়ে তৈরি করেছে ব্যাপক কর্মসংস্থান। প্রস্তুতি ও পরিচালনা পর্যায়ে বিশ্বজুড়ে আট লাখ ২৪ হাজার পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ১১ আয়োজক শহরজুড়েই নতুন কাজ পেয়েছেন প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার মানুষ।
২০২৩-২৬ চক্রে ফিফার মোট আয় ছোঁবে এক হাজার ১০০ কোটি ডলার, যার বড় অংশই আসছে এ বিশ্বকাপ থেকে। আয় বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই দলগুলোর জন্য পারফরম্যান্সভিত্তিক প্রাইজমানি ৫০ শতাংশের বেশি বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
অংশগ্রহণকারী ৪৮ দেশের প্রত্যেকে প্রস্তুতি খরচ বাবদ নিশ্চিতভাবে পাবে ১৫ লাখ ডলার। এমনকি গ্রুপ পর্বে কোনো ম্যাচ না জিতে বিদায় নিলেও প্রতিটি দেশের জন্য এক কোটি ৫০ লাখ ডলার নিশ্চিত!
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

