ফুটবল শুধু কোটি মানুষের হৃদয় দোলায় না, আক্ষরিক অর্থেই পৃথিবীকে কাঁপিয়ে দিতে পারে—তার এক অবিশ্বাস্য প্রমাণ মিলল নরওয়েতে। বিশ্বকাপে ইরাকের বিপক্ষে নরওয়ের ৪-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ডের গোল উদযাপনের সময় নরওয়ের উপকূলীয় শহর বের্গেনে হালকা ভূকম্পন রেকর্ড করেছে দেশটির ভূকম্পন গবেষণা সংস্থা ‘নোরসার’।
১৯৯৮ সালের পর চলতি বিশ্বকাপে এটিই ছিল নরওয়ের প্রথম অংশগ্রহণ। দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছে দেশটি। তবে অভিষেক ম্যাচেই নিজের জাত চেনান আর্লিং হাল্যান্ড। ম্যাচের ২৯ মিনিটে দুর্দান্ত এক গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপে নরওয়ের দীর্ঘ গোলখরা কাটান। এরপর প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের মাঠে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেয়ে যান এই তারকা স্ট্রাইকার।
ম্যাচটি যখন বোস্টনে চলছিল, নরওয়েতে তখন গভীর রাত। তবে সময়ের ব্যবধান নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের উন্মাদনায় কোনো বাধা হতে পারেনি। হাল্যান্ডের প্রথমার্ধের এই জোড়া গোলের পর দেশজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। হাজার হাজার সমর্থক একসঙ্গে উল্লাসে ফেটে পড়েন।
নরওয়ের ভূকম্পন গবেষণা সংস্থা (নোরসার) জানায়, বুধবার ভোর রাতে বের্গেনের সিসমিক স্টেশনটিতে নরওয়ে ও ইরাকের মধ্যকার ম্যাচ চলাকালীন কিছু স্পষ্ট ও অস্বাভাবিক সংকেত ধরা পড়ে। নোরসার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ‘সবচেয়ে বড় কম্পন বা ওঠানামাগুলো আর্লিং হাল্যান্ডের গোলগুলোর সময়ের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়, যা নরওয়েজিয়ান সমর্থকদের তীব্র উল্লাসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।’
নোরসারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এই কম্পনগুলো কোনো প্রাকৃতিক ভূমিকম্প ছিল না। মূলত বের্গেন শহরের বিভিন্ন স্থানে খেলা দেখতে বসা হাজার হাজার সমর্থক যখন হাল্যান্ডের গোলের পর একই সঙ্গে লাফিয়ে উঠে এবং চিৎকার করে উদযাপন করছিলেন, তখন তাদের সম্মিলিত নড়াচড়ার কারণে মাটিতে এই মৃদু কম্পন তৈরি হয়। বিজ্ঞানের ভাষায় একে মানুষের দ্বারা সৃষ্ট মৃদু সিসমিক অ্যাক্টিভিটি বলা চলে।
ইরাকের বিপক্ষে ৪-১ গোলের এই বড় জয় এবং হাল্যান্ডের জোড়া গোলের পাশাপাশি সমর্থকদের মাটি কাঁপিয়ে দেওয়ার এই ঘটনা ফুটবল ইতিহাসে এক অনন্য ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে লেখা থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

