উরুগুয়ের প্রত্যাবর্তন নাকি কেপ ভার্দের রূপকথা

স্পোর্টস রিপোর্টার

উরুগুয়ের প্রত্যাবর্তন নাকি কেপ ভার্দের রূপকথা

উদ্বোধনী ম্যাচে স্পেনের মতো বিশ্ব পরাশক্তিকে রুখে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে রূপকথার জন্ম দিয়েছে নবাগত কেপ ভার্দে। সেই আত্মবিশ্বাসকে পুঁজি করে আগামীকাল সোমবার ভোর ৪টায় মিয়ামি স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এইচ’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে দুবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা। শক্তির বিচারে উরুগুয়ে যোজন যোজন এগিয়ে থাকলেও, মাঠের লড়াইয়ে যেকোনো অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত আফ্রিকার এ দলটি। ফুটবল মঞ্চে এবারই প্রথম মুখোমুখি হচ্ছে দুদল।

বর্তমানে গ্রুপ ‘এইচ’-এর সমীকরণ বেশ নজর কাড়ার মতো। প্রথম ম্যাচ শেষে গ্রুপের চারটি দলেরই সংগ্রহ ১ পয়েন্ট। গোল ব্যবধানে ফিফা র‌্যাংকিংয়ের ১৮তম দল উরুগুয়ে টেবিলের শীর্ষে থাকলেও তাদের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স সমর্থকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। নিজেদের প্রথম ম্যাচে সৌদি আরবের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে মার্সেলো বিয়েলসার দল।

বিজ্ঞাপন

পুরো ম্যাচে উরুগুয়ের আক্রমণভাগের ধারহীনতা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথমার্ধে ডি-বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া তাদের চারটি শটের প্রতিটিই এসেছিল সেট পিস থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে বিয়েলসা দুটি পরিবর্তন আনলেও ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটের আগে বলার মতো কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি তারা। গত ৮টি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচের ৭টিতেই ১ বা তার কম গোল করেছে লা সেলেস্তেরা। কাতার ২০২২ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার ক্ষত এখনো দগদগে, তাই মিয়ামির এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তারা। ডারউইন নুনিয়াস ও ফেদেরিকো ভালভার্দের মতো তারকাদের ওপর ভর করে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট পাওয়াই এখন উরুগুয়ের মূল লক্ষ্য।

অন্যদিকে, ফিফা র‍্যাংকিংয়ের তিন নম্বর দল স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছে র‍্যাংকিংয়ের ৬৩ নম্বর দল কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় র‍্যাংকিং ব্যবধানের ম্যাচ এটি, যেখানে দুর্বল দলটি না হেরে মাঠ ছেড়েছে। এই রূপকথার মহানায়ক ৪০ বছর বয়সি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক ভোজিনিয়া। স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ রুখে দিয়ে ৭টি দুর্দান্ত সেভ ও ৩টি হাই ক্লেইম করে রাতারাতি তিনি জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছেন।

তবে ‘তুবারোয়েস আজুইস’ বা ব্লু শার্কসদের এই রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা কিন্তু আকস্মিক নয়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ১০টি ম্যাচের ৭টিতেই তারা কোনো গোল হজম করেনি। ৭টিতেই জয় ছিনিয়ে নেয় দলটি। এমনকি মে মাসে তারা শক্তিশালী সার্বিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দিয়েছিল। বারমুডাকেও হারিয়েছিল সমান ব্যবধানে। কোচ বুবিস্তার লক্ষ্য এখন আরো বড়। নকআউট পর্বে যেতে হলে বাকি দুই ম্যাচের অন্তত একটিতে জিততে হবে তাদের। তবে উরুগুয়ের রক্ষণ ভাঙতে হলে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে ডি-বক্সে মাত্র ছয়বার বল স্পর্শ করার রেকর্ডে ব্যাপক উন্নতি আনতে হবে রায়ান মেন্দেস ও জোভানে কাব্রালদের।

কাগজে-কলমে উরুগুয়ে এই ম্যাচের নিরঙ্কুশ ফেভারিট। তবে উরুগুয়ের সাম্প্রতিক গোলখরা এবং কেপ ভার্দের ইস্পাতকঠিন রক্ষণ বিবেচনা করলে ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না। তবে অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে থাকায় উরুগুয়ে জয় নিয়ে নকআউটের পথে এক পা বাড়িয়ে দিতে পারে বলেই ফুটবল বিশ্লেষকদের ধারণা।

ফিফা র‍্যাংকিংয়ে অবস্থান

উরুগুয়ে ১৮

কেপ ভার্দে ৬৩

মুখোমুখি লড়াই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন