ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল ভারত ও ব্রাজিল। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ঘরের মাঠে কোনো অঘটন ঘটাতে পারেনি স্বাগতিক ভারত। কলকাতার ঐতিহাসিক সল্ট লেক স্টেডিয়ামে প্রীতি ম্যাচে ভারতকে ৪-০ গোলের বড় ব্যবধানে অনায়াসেই উড়িয়ে দিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বেশ মন্দ করেনি স্বাগতিকরা। ব্রাজিলিয়ানদের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপরীতে দুর্দান্ত লড়াই করে প্রথম ২৭ মিনিট পর্যন্ত নিজেদের জাল অক্ষত রেখেছিল ভারতীয় রক্ষণভাগ। তবে ২৮ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। চেলসির তরুণ ফরোয়ার্ড এস্তেভাওয়ের দারুণ এক বুলেট গতির শটে প্রথম গোল পায় সেলেসাওরা। ভারতীয় গোলরক্ষক গুরপ্রীত সিং সান্ধু বলের লাইনে ঝাঁপিয়ে হাত ছোঁয়ালেও গতির কাছে পরাস্ত হন।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এসে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সফরকারীরা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে এস্তেভাওয়ের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ভারতীয় রক্ষণে চিড় ধরান পেদ্রো। দুরূহ কোণ থেকে নেওয়া তার চমৎকার শট গোলরক্ষক গুরপ্রীতকে বোকা বানিয়ে জালে জড়ালে ২-০ গোলের স্বস্তিদায়ক লিড নিয়ে বিরতিতে যায় ব্রাজিল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে এক ধাক্কায় পাঁচটি পরিবর্তন আনেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। মাঠে নামানো হয় স্যামুয়েল লিনো, ব্রুনো গিমারায়েস, গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, ভান্দেরসন এবং দগলাস লুইজকে। কোচের এই কৌশলগত পরিবর্তনের সুফলও মেলে হাতেনাতে।
ম্যাচের ৫৮ মিনিটে ভারতীয় রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে বক্সের বাঁ দিক দিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে স্কোরলাইন ৩-০ করেন বদলি ফরোয়ার্ড স্যামুয়েল লিনো। এরপর ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে (ইনজুরি টাইমের ৯০+৪ মিনিটে) নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করার সঙ্গে ভারতের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন সেই লিনো। বক্সের সামান্য ভেতর থেকে নিচু ও জোরালো শটে কাছের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
এই দাপুটে জয়ের মধ্য দিয়েই এবারের ফিফা উইন্ডোর সফল সমাপ্তি টানল ব্রাজিল। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলা প্রীতি ম্যাচেও অপরাজিত ছিল ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তিরা। এই ঐতিহাসিক জয় বিশ্ব ফুটবলে ব্রাজিলের আধিপত্য এবং কার্লো আনচেলত্তির কৌশলগত দূরদর্শিতাকে আরও একবার প্রমাণ করল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

