পশ্চিম তীরে সহিংসতা

ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের

ইসরাইলের ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং ফিলিস্তিনিদের ব্যাপক গ্রেপ্তারের ঘটনায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা।

বিজ্ঞাপন

বুধবার নেতানিয়াহুর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এই আহ্বান জানানো হয়। রয়টার্সের দেখা চিঠিটিতে সিনেটের ৪৭ সদস্যের ডেমোক্র্যাটিক ককাসের ৪২ জন সদস্য স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ‘প্রাণঘাতী সহিংসতা’ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

পশ্চিম তীরে ২০২২ সাল থেকে বসতি স্থাপনকারী বা ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত নয়জন মার্কিন নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনা আরও জোরালোভাবে তদন্তের জন্যও নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা।

চিঠিতে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সহিংসতা ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে’। এর জেরে ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে, বহু ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে এবং বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদে হামলা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পশ্চিম তীর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইসরাইল সরকারের ভূমিকা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ইসরাইলি সরকারের দূরত্ব বাড়ার সর্বশেষ উদাহরণ এই চিঠি। গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযানের কারণেও দলের অনেক নেতা ইসরাইলকে দেওয়া মার্কিন সামরিক সহায়তা কমানোর দাবি জানিয়ে আসছেন।

চিঠিটি তৈরি করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেটর অ্যাডাম শিফ, নিউইয়র্কের ডেমোক্র্যাটিক নেতা চাক শুমার এবং নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার। শুমার দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

গত সপ্তাহে কর্মকর্তারা জানান, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের একটি দলকে পাহারা দেওয়া এক ইসরাইলি ব্যক্তি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রবেশ করে বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। এতে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোর এবং ৭০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি নিহত হন।

সহিংসতার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তির পরিচয় বা পক্ষ বিবেচনা না করে তা ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে হস্তক্ষেপ করতে ইসরাইলি পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সিনেটররা।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে, ফিলিস্তিনি এলাকায় বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার ঘটনায় ইসরাইলি বাহিনী দ্রুত ব্যবস্থা নেয় না। কখনো কখনো হামলা চলার সময় তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকেও নীরব থাকে। তবে ইসরাইলি কর্মকর্তারা দাবি করে আসছেন, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নিন্দা করেছেন।

চিঠিতে পশ্চিম তীরে নতুন ইহুদি বসতি ও ‘অবৈধ বসতি স্থাপনা’ নির্মাণের অনুমোদন বন্ধ এবং ইতিমধ্যে গড়ে ওঠা এসব স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাটরা এবং চলতি বছরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলটির অনেক প্রার্থী নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের সমালোচনায় ক্রমশ সোচ্চার হয়েছেন।

গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরাইলে হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি ও বিদেশি নাগরিক নিহত হন এবং ২৫০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করা হয়।

গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি প্রচেষ্টা দুর্বল হয়ে পড়া এবং পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়ার মধ্যে অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা ইসরাইলকে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সামরিক সহায়তার কয়েক বিলিয়ন ডলার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো বা পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত খুব বেশি মন্তব্য করেননি। তবে ইসরাইলে নিযুক্ত তাঁর রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারীদের ‘ইসরাইলি সন্ত্রাসী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। চলতি মাসে রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফিলিস্তিনের কুসরা গ্রামের ওপর হামলা ও অবরোধে জড়িতদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন