একই দিনে জন্ম, দুই ভিন্ন গল্পে ফুটবলের দুই রাজপুত্র

একই দিনে জন্ম, দুই ভিন্ন গল্পে ফুটবলের দুই রাজপুত্র

ফুটবল ক্যালেন্ডারে ৫ ফেব্রুয়ারি মানেই বিশেষ কিছু। কারণ এই দিনেই জন্ম নিয়েছেন আধুনিক ফুটবলের দুই মহাতারকা—ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও নেইমার জুনিয়র। একই দিনে জন্ম হলেও তাদের পথচলা, লড়াই আর উত্তরাধিকার তৈরি হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রঙে। তবু বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে দুজনই নিজেদের নাম লিখিয়েছেন স্বর্ণাক্ষরে।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: অদম্য পরিশ্রমের প্রতিচ্ছবি
১৯৮৫ সালের এই দিনে পর্তুগালের মাদেইরা দ্বীপে জন্ম রোনালদোর। শৈশব থেকেই স্বপ্ন ছিল বড়—আর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তিনি কখনোই আপস করেননি। মাত্র ১২ বছর বয়সে পরিবার ছেড়ে যোগ দেন স্পোর্টিং লিসবনের একাডেমিতে। সেখান থেকেই শুরু এক কিংবদন্তির যাত্রা।

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে ইউরোপীয় ফুটবলে নিজের আগমনী বার্তা দেন রোনালদো। পরে রিয়াল মাদ্রিদে গিয়ে নিজেকে নিয়ে যান অন্য এক উচ্চতায়, যেখানে তিনি শুধু ক্লাবের নয়—পুরো ফুটবল ইতিহাসের অংশ হয়ে ওঠেন। বয়স বাড়লেও ফিটনেস, ক্ষুধা আর গোল করার তাড়না—সবই এখনো অটুট। বর্তমানে সৌদি ক্লাব আল নাসরে খেললেও তার চোখ এখনো আন্তর্জাতিক মঞ্চে, পর্তুগালকে আরেকটি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্নে।

ক্যারিয়ারে হাজারের অধিক ম্যাচে ৯৬১ গোল করে এখনো চলমান রোনালদো। তিনি ফুটবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। পর্তুগাল জাতীয় দলের হয়ে তিনি ১৪৩টি গোল করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ফুটবলেও রেকর্ড। খেলেছেন স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস, আল নাসরে। পাঁচটি করে আছেন ব্যালন ডি'র এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। জিতেছেন ইউরো ২০১৬।

নেইমার জুনিয়র: প্রতিভা আর শিল্পীর মেলবন্ধন
১৯৯২ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ব্রাজিলে জন্ম নেওয়া নেইমার ছিলেন জন্মগতভাবেই আলোচনার কেন্দ্রে। ছোটবেলা থেকেই বলের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শিল্পীর মতো। সান্তোসে পেলের উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে মেলে ধরেন তিনি, কিশোর বয়সেই বিশ্ববাসীর নজর কাড়েন ড্রিবল, গতি আর কল্পনাশক্তিতে।

বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে মেসি-সুয়ারেজের সঙ্গে গড়ে তোলেন ঐতিহাসিক ‘এমএসএন’ ত্রয়ী। এরপর পিএসজিতে রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে যোগ দিয়ে ফুটবল বাজারে নতুন অধ্যায় লেখেন। তবে ক্যারিয়ারের বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে ইনজুরি। তবুও প্রতিবারই ফিরে আসার চেষ্টা করেছেন, এখনও করছেন। বর্তমানে চোট কাটিয়ে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

নেইমার জুনিয়র ব্রাজিল জাতীয় দল এবং ক্লাব ফুটবলের অন্যতম সেরা গোলদাতা, যিনি ৭০০-র বেশি ক্যারিয়ার গোলে অবদান (গোল+অ্যাসিস্ট) রেখেছেন। ১২৬ ম্যাচে ৭৯ গোল করে তিনি ব্রাজিল জাতীয় দলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা। বার্সেলোনা ও পিএসজির হয়েও তিনি দুর্দান্ত সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছেন এবং ৩৪টি ট্রফি জিতেছেন। খেলেছেন সান্তোস, বার্সেলোনা, পিএসজি, আল হিলালে।

শেষ অধ্যায়ের অপেক্ষায়?
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন বিশ্বকাপ হতে পারে এই দুই তারকার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় মঞ্চ। রোনালদো এখনো শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিতে প্রস্তুত থাকলেও, নেইমারের ক্ষেত্রে ইনজুরি বড় প্রশ্নচিহ্ন। তবুও আশা ছাড়তে রাজি নন ভক্তরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন