প্রথম ইনিংসে পাকিস্তান সাজিয়েছিল বাজে ব্যাটিংয়ের পসরা। স্বাভাবিক কারণে দলীয় স্কোর গুটিয়ে গিয়েছিল মাত্র ১৩৩ রানেই। জবাবে ইংল্যান্ড তুলেছে ৪৫৩ রানের পাহাড়সম পুঁজি। তাতে প্রথম ইনিংসেই সফরকারীরা পিছিয়ে পড়ে ৩২০ রানে। এই স্কোরই বলে দিচ্ছে, এজবাস্টন টেস্টে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে পাকিস্তানের। তাই তো মরিয়া হয়ে ব্যাটিংয়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে বাবর আজমরা। ব্যাট হাতে দারুণ পারফরম্যান্সে ঘুরেও দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন তারা। ব্যাটিংয়ে দাপট দেখিয়েছেন বাবর আজম, আজান আওয়াইস ও শান মাসুদ। ব্যাটিং ভালো হলোও অতিথিরা এখনো ৪১ রানে পিছিয়ে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তৃতীয় টেস্টের তৃতীয় দিনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট হারিয়ে ২৭৯ রান সংগ্রহ করেছে পাকিস্তান।
যদিও শুরুটা ছিল যাচ্ছেতাই। দলীয় স্কোরে কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই পাকিস্তান হারিয়ে ফেলে ২ উইকেট। শূন্য রানে ফিরে যান সাইম আইয়ুব ও আব্দুল্লাহ শফিক। প্রথম ইনিংসের মতো ব্যাটিং বিপর্যয়ের আভাস যেন পাচ্ছিলেন ক্রিকেট অনুরাগীরা। তৃতীয় উইকেট জুটিতে শান মাসুদ ও আজান আওয়াইস ১২৫ রানের দারুণ এক জুটি গড়ে দলকে বিপদ থেকে উদ্ধার করেন। ওপেনার আজান আওয়াইস ৫৯ রান নিয়ে ফিরে গেলেও বাবর আজম এসেও ব্যাটে রান দেখতে পান। মাসুদের সঙ্গে চতুর্থ উইকেট জুটিতে গড়েন ৮৯ রানের কার্যকরী ইনিংস। দাপুটে ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরির আভাস দিয়েও সমর্থকদের হতাশ করেন মাসুদ। জাদুকরী তিন অঙ্ক মিস করেন মাত্র ৫ রানের জন্য। ১৪৮ বলে ১২ বাউন্ডারিতে উপহার দেন ৯৫ রানে দুর্বার এক ইনিংস। তার দেখাদেখি সেঞ্চুরির পথে হাঁটছিলেন বাবর আজমও। কিন্তু ব্যর্থতার গল্প লিখেছেন পাকিস্তানের এ অধিনায়কও। ১০৩ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় সাজানো ৭৬ রানের ইনিংসেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাকে।
ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট নেন অলি রবিনসন। একটি করে উইকেট নেন গাস অ্যাটকিনসন, জশ টাং ও ড্যান লরেন্স।
ইনিংস পরাজয় এড়ানোই এখন পাকিস্তানের মূল লক্ষ্য। সিরিজে ইতোমধ্যে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা এবং দ্বিতীয় টেস্টের পর কোচ সারফরাজ আহমেদসহ একাধিক পরিবর্তন আনা পাকিস্তান দল এখন ৩-০ হোয়াইটওয়াশ এড়াতে মরিয়া। ব্যাটসম্যানরা কতদূর টেনে নিতে পারে পাকিস্তানকে, তার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের বাকি অংশের ভাগ্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

