নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না বললেন এসপি

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত আসামির আতঙ্ক, ঘরছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা

সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত আসামির আতঙ্ক, ঘরছাড়া বিএনপি নেতাকর্মীরা
সীতাকুণ্ড থানা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অজ্ঞাত আসামির তালিকা ধরে পুলিশি তল্লাশির অভিযোগে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। সুনির্দিষ্ট নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশি অভিযানের মুখে অনেক নেতাকর্মী বাড়িছাড়া রয়েছেন বলে অভিযোগ দলটির। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে সীতাকুণ্ড মডেল থানায় গিয়ে ওসির কক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

পুলিশ ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষ ও প্রকাশ্যে অস্ত্র প্রদর্শনের একটি ঘটনায় ২৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলা দায়েরের পর থেকেই পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে গ্রেপ্তার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

বিজ্ঞাপন

দলীয় নেতাদের অভিযোগ, মুরাদপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকসহ পৌরসভা যুবদলের বেশ কয়েকজন নেতার বাড়িতে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েছে। পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহির উদ্দিন আশরাফ জানান, যুবদল নেতা তাহিমুল ইসলাম সৈকত ও আজাদ নেওয়াজের বাড়িতে পুলিশ গিয়ে পরিবারের সদস্যদের হয়রানি করেছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এভাবে হেনস্তা না করার দাবি জানান তিনি।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সদস্যসচিব ফজলুল করিম চৌধুরী ও যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরুল আলম জহুর বলেন, অজ্ঞাত আসামির সুযোগ নিয়ে নিরীহ নেতাকর্মীদের বাড়িতে মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। প্রকৃত অস্ত্রধারী বা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা হোক, কিন্তু নিরীহ কর্মীদের যেন হয়রানি করা না হয়। হয়রানি বন্ধ না হলে রাজপথে কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

অন্যদিকে, সীতাকুণ্ডের মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুর ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

তবে চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম আমার দেশকে বলেন, নিরীহ কাউকে পুলিশ হয়রানি করবে না। শুধুমাত্র যারা অস্ত্র প্রদর্শন করেছে, কেবল তাদেরই আইনের আওতায় আনা হবে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না।

সংঘর্ষ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি তদন্তের নামে নিরপরাধ মানুষ ও পরিবারগুলো যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহলও নজর রাখার তাগিদ দিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন