ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই বিশ্বের সেরা তারকাদের মহারণ। কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ, গ্যালারির গর্জন আর ইতিহাস গড়ার মঞ্চ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে আসরে কিছু পরিচিত মুখ থাকছেন না, যা নিঃসন্দেহে কষ্ট দেবে ফুটবলপ্রেমীদের। কেউ বাদ পড়েছেন চোটে, কেউবা দেশের ব্যর্থতায়; তবুও তাদের নাম ঘিরে আলোচনা থামছেই না এক মুহূর্তের জন্যও। বিশ্বকাপ মঞ্চে অনুপস্থিত এসব তারকা যেন অসমাপ্ত গল্পের চরিত্র। কেউ ছিলেন নিজের দেশের আশা, কেউ ক্লাব ফুটবলের বিস্ময়, আবার কেউ ছিলেন ভবিষ্যতের মহাতারকা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম বাস্তবতায় উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে দেখা যাবে না তাদের।
খভিচা কাভারাতস্কেলিয়া (জর্জিয়া)
পিএসজির জার্সিতে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েও বিশ্বকাপের টিকিট জোটেনি এই জর্জিয়ান উইঙ্গারের। ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে ভয়ংকর ড্রিবলারদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করলেও জর্জিয়ার ব্যর্থতায় আবারও বিশ্বকাপ অধরাই রয়ে গেল তার কাছে। ইউরো ২০২৪-এ শেষ ১৬ পর্যন্ত দারুণ যাত্রা ছিল; কিন্তু বিশ্বকাপ মঞ্চ এবারও তাকে ডাকেনি।
রবার্ট লেভানডোভস্কি (পোল্যান্ড)
এটাই হয়তো বিশ্বকাপে খেলার শেষ সুযোগ ছিল পোলিশ কিংবদন্তির। ৩৭ বছর বয়সি এই স্ট্রাইকারের চোখের জল যেন পুরো পোল্যান্ডের হতাশার প্রতিচ্ছবি হয়েই উঠেছিল। দেশের হয়ে ১৬৫ ম্যাচে ৮৯ গোল করা লেভানডোভস্কি বিশ্বকাপে কখনো নিজের স্বপ্নমতো আলো ছড়াতে পারেননি। এবার তো মাঠেই নামার সুযোগ মিলল না।
জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা ও সান্দ্রো তোনালি (ইতালি)
বিশ্বকাপে ইতালির অনুপস্থিতি এখন যেন অভিশাপের নাম। টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়ায় দোন্নারুম্মার মতো বিশ্বসেরা গোলরক্ষক ও তোনালির মতো মিডফিল্ড জেনারেলকে দেখা যাবে না ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে। আজ্জুরিদের এই ব্যর্থতা ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য এক গভীর হতাশা।
ভিক্টর ওসিমেন ও আদেমোলা লুকম্যান (নাইজেরিয়া)
আফ্রিকার সবচেয়ে ভয়ংকর আক্রমণ জুটিগুলোর একটি ছিল নাইজেরিয়ার ওসিমেন-লুকম্যান। কিন্তু ডিআর কঙ্গোর কাছে প্লে-অফে হেরে বিশ্বকাপ স্বপ্ন ভেঙে যায় সুপার ঈগলসদের। ওসিমেনের গোলক্ষুধা আর লুকম্যানের গতি—দুটোই মিস করবে বিশ্বকাপ।
হুগো একিতিকে (ফ্রান্স)
লিভারপুলে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়ে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার খুব কাছাকাছি ছিলেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কিন্তু আচমকা অ্যাকিলিস টেন্ডনে গুরুতর চোট তার সব স্বপ্ন ভেঙে দেয়। কান্নায় ভেঙে পড়ে মাঠ ছাড়ার সেই দৃশ্য এখনো ফুটবলপ্রেমীদের মনে তাজা।
এস্তেভাও ও রদ্রিগো (ব্রাজিল)
ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ বলা হচ্ছিল এস্তেভাওকে। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়েছিলেন। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং চোট কেড়ে নিয়েছে তার প্রথম বিশ্বকাপ। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদের তারকা রদ্রিগো ছিটকে গেছেন হাঁটুর ভয়াবহ চোটে। সাম্বা ফুটবলের জন্য যা এক বড় ধাক্কা।
জাভি সিমন্স (নেদারল্যান্ডস)
নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা হয়ে ওঠার পথে ছিলেন জাভি সিমন্স। কিন্তু এসিএল ইনজুরি থামিয়ে দিয়েছে তার বিশ্বকাপযাত্রা। ২০২২ বিশ্বকাপে অভিষেক হওয়া এই তরুণ এবার আরো বড় ভূমিকা পালনের অপেক্ষায় ছিলেন।
ব্রায়ান এমবেউমো (ক্যামেরুন)
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে দারুণ সময় কাটালেও বিশ্বকাপ টিকিট জোটেনি এমবেউমোর। আফ্রিকার অন্যতম সফল দেশ ক্যামেরুনের না থাকা যেমন বিস্ময়, তেমনি হতাশার নাম এই ফরোয়ার্ডের অনুপস্থিতিও।
আরো যেসব তারকা থাকছেন না
স্পেনের ফারমিন লোপেজ, জার্মানির সার্জ গনাব্রি, ইংল্যান্ডের কোল পালমার ও ফিল ফোডেন, জাপানের তাকুমি মিনামিনো ও কাওরু মিতোমা, ব্রাজিলের এদের মিলিতাওয়ের অনুপস্থিতি বিশ্বকাপের রঙে খানিকটা অপূর্ণতা এনে দেবে। এছাড়া স্লোভেনিয়ার ইয়ান ওব্লাক ও হাঙ্গেরির ডমিনিক সোবোস্লাইও থাকছেন না নিজেদের দেশের ব্যর্থতায়। বিশ্বকাপের আলোয় নতুন নায়করা জন্ম নেবে ঠিকই; কিন্তু এই অনুপস্থিত তারকাদের গল্পও সমানভাবে আলোচিত হবে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

