বিশ্বকাপে আসছে স্মার্ট অফসাইড প্রযুক্তি

স্পোর্টস ডেস্ক

বিশ্বকাপে আসছে স্মার্ট অফসাইড প্রযুক্তি

ফুটবলের সবচেয়ে বিতর্কিত মুহূর্তগুলোর একটি হলো অফসাইডের পতাকা দেরিতে ওঠানোয় আক্রমণ এগিয়ে যায়, গোলের সুযোগ তৈরি হয়, কখনো সংঘর্ষে চোটও লাগে; এরপর হঠাৎ দেখা যায় লাইন্সম্যানের পতাকা। এই সময়ক্ষেপণ দূর করতেই ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনছে ফিফা। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো আরো উন্নত সেমি-অটোমেটেড অফসাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা সহকারী রেফারিদের কাছে তাৎক্ষণিক অডিও সংকেত পাঠাবে। ফলে স্পষ্ট অফসাইডের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হবে না।

নতুন ব্যবস্থায় কোনো খেলোয়াড় ১০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড অবস্থানে থাকলেই সহকারী রেফারির হেডসেটে সঙ্গে সঙ্গে সতর্কবার্তা পৌঁছে যাবে। এর আগে ক্লাব বিশ্বকাপ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত প্রযুক্তি কেবল ৫০ সেন্টিমিটারের বেশি অফসাইড শনাক্ত করতে পারত। এবার সেই সীমা আরো কমিয়ে আনা হয়েছে। তবে প্রযুক্তি শুধু সহায়তা করবে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত থাকবে মাঠের কর্মকর্তাদের হাতেই। কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখা দিলে সহকারী রেফারি পতাকা তুলবেন কি নাÑসে সিদ্ধান্ত তারই।

বিজ্ঞাপন

ফিফার লক্ষ্য শুধু দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা। কারণ, দেরিতে অফসাইড ধরা পড়ার কারণে অপ্রয়োজনীয়ভাবে খেলা চলতে থাকে এবং তাতে চোটের ঝুঁকি বাড়ে। ২০২৫ সালে নটিংহ্যাম ফরেস্টের স্ট্রাইকার তাইও আওনিয়ি এমনই এক ঘটনায় গোলপোস্টে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয়ে কোমায় চলে গিয়েছিলেন।

প্রযুক্তির আরেকটি আকর্ষণীয় দিক হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ত্রিমাত্রিক অবতার। বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ৪৮ দলের এক হাজার ২৪৮ ফুটবলারের প্রত্যেকের ডিজিটাল স্ক্যান তৈরি করা হবে। মাত্র এক সেকেন্ডের স্ক্যান প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি হবে খেলোয়াড়দের হুবহু ত্রিমাত্রিক রূপ, যা অফসাইডের অ্যানিমেশনকে আরো বাস্তবসম্মত ও নির্ভুল করে তুলবে। ফলে টেলিভিশন দর্শক এবং স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে অফসাইডের সিদ্ধান্ত আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে দেখা যাবে।

শুধু অফসাইড নয়, বল পুরোপুরি মাঠের বাইরে গিয়েছিল কি না, সেটিও এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে নির্ভুলভাবে যাচাই করা যাবে। গোললাইন প্রযুক্তির মতো বিশেষ থ্রিডি অ্যানিমেশন ব্যবহার করে বলের অবস্থান দেখানো হবে। পাশাপাশি বলের ভেতরে থাকা বিশেষ চিপ জানিয়ে দেবে সর্বশেষ কোন খেলোয়াড় বল স্পর্শ করেছিলেন। এর ফলে কর্নার, থ্রো-ইন কিংবা গোলের আগে বল মাঠের বাইরে গিয়েছিল কি না—এসব বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আরো দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নেওয়া সম্ভব হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...