বিশ্বকাপ ‘বিক্রি’ করতে পারলে প্রতিদিন এক কোটি টাকা পেতেন ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপ ‘বিক্রি’ করতে পারলে প্রতিদিন এক কোটি টাকা পেতেন ইনফান্তিনো

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত ভেস্তে গেছে। কিন্তু সে পরিকল্পনা ঘিরে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া ঝড় এখনো থামেনি। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে তার ওপর চাপ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে ইনফান্তিনো ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন প্রায় এক কোটি টাকার সমপরিমাণ পারিশ্রমিক পেতে পারতেন। এ কারণেই পরিকল্পনাটিকে ‘বিশ্বকাপ বিক্রির চেষ্টা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। এর ফলে সৃষ্টি হয়েছে দোলাচল, যেখানে পক্ষ-বিপক্ষের মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় দুলছেন ফিফা সভাপতি।

বিজ্ঞাপন

‘লাল কার্ড’ ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের

এদিকে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম’ ইস্যুতে সবার আগে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে ওয়েলস ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএডব্লিউ)। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, ২০২৭-৩১ মেয়াদে ফিফা সভাপতি হিসেবে ইনফান্তিনোর পুনঃনির্বাচনে আর সমর্থন দেবে না। সংস্থাটির ভাষ্য, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো ফিফার সুশাসন, নেতৃত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং অংশীজনদের সঙ্গে যোগাযোগÑসব ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। বিশ্বফুটবলের নেতৃত্বে ইনফান্তিনোর প্রতি তাদের আর আস্থা নেই।

ওয়েলসের পর একই পথে হাঁটছে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। তারা উয়েফার অবস্থানের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে ফিফার নেতৃত্ব ও প্রশাসন নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি তুলেছে। ইংলিশ এফএর মতে, বিশ্বফুটবলকে এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে ২১১ সদস্য দেশের স্বার্থ, স্বচ্ছতা ও দীর্ঘমেয়াদি ফুটবল উন্নয়নই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়। ওয়েলস ও ইংল্যান্ডের এই অবস্থান ইউরোপজুড়ে ইনফান্তিনোর রাজনৈতিক অবস্থানকে আরো দুর্বল করে দিয়েছে।

রিয়ালও উয়েফার পক্ষে

বিশ্বকাপ ও অন্য ইভেন্টগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে ফিফার বিরোধিতা করে উয়েফার পক্ষ নিয়েছে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ। তারা একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়েছে। দৃঢ়ভাবে ও দায়িত্বের সঙ্গে এ প্রকল্পের বিরোধিতা করায় ইউরোপিয়ান ফেডারেশন এবং অন্যান্য সংস্থাকে ধন্যবাদ দিয়েছে স্পেনের ক্লাবটি।

স্প্যানিশ ক্লাব তাদের বিবৃতিতে বলেছে, উয়েফাসহ একাধিক সংস্থার এই বিরোধিতা একটি সংকটজনক মুহূর্তে ফুটবলকে রক্ষা করেছে। এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন থেকে ফিফার সরে আসার সিদ্ধান্তকে ‘খুব ইতিবাচক’ হিসেবে দেখছে রিয়াল, যেটাকে ‘সুসংবাদ’ বলেছে তারা।

রিয়াল বলেছে, ‘ক্লাবগুলোর ভিত্তিতে জাতীয় দলের ফুটবল এবং বিশ্বকাপ নির্মিত হয়। তারাই এমন খেলোয়াড়দের খুঁজে বের করে, প্রশিক্ষণ দেয়, বিকশিত করে এবং জাতীয় দলের জন্য প্রস্তুত করে, যাদের জন্য এই বড় প্রতিযোগিতাগুলো সম্ভব হয়। জাতীয় দলের ফুটবল ও বিশ্বকাপকে কখনই মুষ্টিমেয় কিছু লোকের সুবিধার জন্য লেনদেনযোগ্য নিছক আর্থিক সম্পদ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।’

ছয় দেশের সমর্থন

তবে চারদিক থেকে সমালোচনার মুখে পড়লেও ইনফান্তিনো পুরোপুরি একা হয়ে যাননি। বিশ্বকাপের অংশীদারত্ব বিক্রির পরিকল্পনা বাতিলের পর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মরক্কো, মিসর, সৌদি আরব ও আর্জেন্টিনা প্রকাশ্যে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব দেশের দাবি, পরিকল্পনাটি প্রত্যাহার করে ইনফান্তিনো সদস্য দেশগুলোর মতামতের প্রতি সম্মান দেখিয়েছেন এবং এখন বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের পরিবেশ তৈরি করাই জরুরি।

তবে ইউরোপীয় ফুটবল মহলের মতে, পরিকল্পনা প্রত্যাহার করলেও বিতর্ক কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। উয়েফা, কনকাকাফ ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) একাংশ ইতোমধ্যেই ফিফার প্রশাসনিক সংস্কার এবং ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচন সামনে রেখে বিশ্বফুটবলের রাজনীতিতে নতুন এক ক্ষমতার লড়াই শুরু হয়ে গেছে। ইনফান্তিনো শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে পারবেন, নাকি ক্রমবর্ধমান চাপ তাকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য করবেÑএখন সেটিই বিশ্বফুটবলের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন