চোটই এখন নেইমার জুনিয়রের সবচেয়ে বড় শত্রু। মাঠের লড়াইয়ে প্রতিপক্ষের কোনো ফুটবলারের নামটা এখন না নিলেও চলে। ইনজুরির বিরুদ্ধে লড়াই এখন যেন এ ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের মূল চ্যালেঞ্জ। যে কারণে সৌদি আরব পর্ব বলার মতো তেমন কোনো সাফল্য ছাড়াই শেষ করেছেন আগে-ভাগেই। ক্লাব আল হিলালের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে ফেলেছেন গত বছরের জানুয়ারিতেই। মধ্যপ্রাচ্য ছেড়ে নিজের বাল্যকালের ক্লাব সান্তোসে ফিরেছেন নেইমার। চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত চুক্তি নবায়ন করে রেখেছেন স্বদেশি ক্লাবটির সঙ্গে। কিন্তু গত ডিসেম্বরে হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করানোয় জানুয়ারিতে ব্রাজিলিয়ান মৌসুমের শুরুতে মাঠেই ছিলেন না। মাঠে খেলায় তার প্রত্যাবর্তন হয় গত সপ্তাহে।
একের পর এক চোটের হানায় নেইমার নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে নতুন করে ভাবছেন। সামনের বছর কী ঘটবে, তা তো অনেক দূরের বিষয়। চলতি বছরের বাকি সময়টায় মাঠে থাকতে পারবেন কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা পাচ্ছেন না নেইমার। বিশ্বকাপে তার খেলাও যে বেশ খানিকটা অনিশ্চিত। সেটা স্পষ্ট হয়েছে তার কথায়। হয়তো কোচ কার্লো আনচেলত্তির বিশ্বকাপ পরিকল্পনায় নিজেকে দেখছেন না নেইমার। যে কারণে অবসরের চিন্তা পেয়ে বসেছে তাকে। তাই নেইমার দিলেন অবসরের আভাস, ‘এখন থেকে কী হবে, আমি জানি না। আগামী বছর নিয়েও কিছু বলতে পারছি না। সম্ভবত ডিসেম্বর এলে অবসর নিতে চাইব। এখন আমি বছর ধরে এগোচ্ছি।’
সান্তোসের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ফুরোবে চলতি বছর শেষে। এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে অবসর নিতে পারেন নেইমার। তবে অবসর নিয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। মন যা বলে, সেটাও করবেন নেইমার, ‘দেখা যাক, আমার মন কী সিদ্ধান্ত নেয়। বছরের শেষ দিকে আমার মন যা বলবে, সেটির ওপরই সব নির্ভর করছে।’
সামনে বিশ্বকাপ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠেয় ফুটবলের বৈশ্বিক আসর হতে যাচ্ছে নেইমারের ক্যারিয়ারের শেষ। এ কারণে আগামী জুন-জুলাইতে জন্মভূমি ব্রাজিলের জার্সিতে বিশ্বকাপে খেলতে চান নেইমার যে করেই হোক। তার আগে ফিতে পেতে চান ফিটনেস। তারপরই ফিরতে চান ব্রাজিল জাতীয় দলে। ইনজুরির ছোবলে সেটাই করতে পারছেন না দুই বছরের অধিক সময় ধরে। ব্রাজিলের হয়ে নেইমার সর্বশেষ মাঠে নামেন ২০২৩ সালের অক্টোবরে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

