চ্যাম্পিয়নস লিগে ফের বসতে যাচ্ছে ইউরোপের দলগুলোর মহারণ। আজ রাতে ইউরোপসেরার মঞ্চে শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে মাঠে নামবে স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদ, ইংলিশ লিগের ম্যানচেস্টার সিটি-চেলসি-আর্সেনাল, ফরাসি জায়ান্ট প্যারিস সেইন্ট জার্মেই (পিএসজি) ও জার্মানির বায়ার লেভারকুসেন। রাত পৌনে ১২টায় স্পোর্টিং সিপির বিপক্ষে মাঠে নামছে নরওয়ের ক্লাব বোদো/গ্লিমট। এরপর দিবাগত রাত ২টায় একইসঙ্গে মুখোমুখি হচ্ছে ম্যানসিটি-রিয়াল মাদ্রিদ, চেলসি-পিএসজি ও আর্সেনাল-বায়ার লেভারকুসেন।
স্পোর্টিং সিপির সামনে বেশ কঠিন পরীক্ষা। প্রথম লেগে নরওয়েতে বোদো/গ্লিমটের কাছে ৩-০ গোলে হেরে বড় ধাক্কা খেয়েছে তারা। ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে নিজেদের মাঠে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জয় পেতে হবে তাদের। তবে ঘরের মাঠে স্পোর্টিংয়ের পারফরম্যান্স বেশ শক্তিশালী। জোসে আলভালাদেতে শেষ ১৮ ম্যাচের মধ্যে ১৭টিতেই জয় পেয়েছে দলটি, যার মধ্যে ১০টি জয় এসেছে তিন গোল বা তার বেশি ব্যবধানে। এই পরিসংখ্যানই নতুন করে আশাবাদী করে তুলছে লিসবনের ক্লাবটিকে। অন্যদিকে প্রথম লেগের দাপুটে জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর বোদো/গ্লিমট। সন্ড্রে ফেট, ওলে ব্লমবার্গ ও কাসপার হগের গোলেই প্রথম ম্যাচে বড় লিড নেয় নরওয়ের ক্লাবটি। ইতিহাসে প্রথমবার চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন দেখছে তারা।
এদিকে ম্যানসিটির সামনে বেশ ভালো চ্যালেঞ্জ। প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ৩-০ গোলে হেরে বিপাকে পড়েছে পেপ গার্দিওলার দল। ওই ম্যাচে ফেদেরিকো ভালভার্দের হ্যাটট্রিকেই বড় ব্যবধানের জয় পায় স্প্যানিশ জায়ান্টরা। আজ এই ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে হলে সিটিকে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আক্রমণভাগে গোলখরায় ভুগছে দলটি। বিশেষ করে আরলিং হ্যালান্ড শেষ ১৭ ম্যাচে করেছেন মাত্র চার গোল। মাদ্রিদের রাজাদের হারাতে হলে জ্বলে উঠতে হবে সিটিজেনদের রাজাকে। অন্যদিকে রিয়াল মাদ্রিদ ভালো ছন্দে রয়েছে। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে শেষ পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই জয় পেয়েছে তারা। ফলে তিন গোলের লিড ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে আত্মবিশ্বাসী কার্লো আনচেলত্তির দল।
চেলসির সামনে অসম্ভব মিশন। স্টামফোর্ড ব্রিজে পিএসজির বিপক্ষে খেলবে চেলসি। প্রথম লেগে ফ্রান্সে ৫-২ গোলে হেরে কঠিন অবস্থায় আছে লন্ডনের ক্লাবটি। ওই ম্যাচে এক সময় ২-২ সমতা ফিরিয়েছিল চেলসি। তবে শেষদিকে খভিচা কভারাতস্কেলিয়ার দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে বড় জয় তুলে নেয় প্যারিসের ক্লাবটি। তিনি একটি গোল করার পাশাপাশি ভিতিনিয়াকে দিয়ে গোল করান। ফলে দ্বিতীয় লেগে অন্তত তিন গোলের ব্যবধানে জয় না পেলে বিদায় নিতে হবে চেলসিকে। অন্যদিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন পিএসজি আত্মবিশ্বাসীভাবেই লন্ডনে যাচ্ছে।
আর্সেনাল আছে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে। এমিরেটস স্টেডিয়ামে বায়ার লেভারকুসেনকে আতিথ্য দেবে তারা। জার্মানিতে প্রথম লেগে প্রায় হারের মুখে পড়লেও শেষ মুহূর্তে পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান কাই হাভার্টজ। নিজেদের মাঠে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় আর্সেনালের রেকর্ডও দারুণ। শেষ ২২ ম্যাচে মাত্র একবার হেরেছে তারা। আবার সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ফর্মের তুঙ্গে আছে ‘গানার’রা। ফলে দ্বিতীয় লেগে গানারদের দিকেই পাল্লা ভারী বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে আজকের ম্যাচগুলোয় চ্যাম্পিয়নস লিগে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই দেখার অপেক্ষায় ফুটবলপ্রেমীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

