মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, মঙ্গলবারের হামলার পর বুধবার রাতেও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালাতে পারে।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, আমি একটু আগাম সতর্ক করে দিচ্ছি—আজ রাতে আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানব।
ট্রাম্পের এ বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ ও কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্র, পানি পরিশোধনসহ সর্বাত্মক হামলার হুমকি
ইরানের ওপর মঙ্গলবারের হামলা ‘ব্যাপক প্রভাব’ ফেলেছে বলে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানের ওপর সর্বশেষ মার্কিন হামলা ‘ব্যাপক প্রভাব’ ফেলেছে। তিনি দাবি করেন, তেহরানের পুনর্নির্মাণাধীন রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, যদিও তিনি তার এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পরিস্থিতি আরও কঠোর করতে পারে। “তাদের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বিদ্যুৎ কারখানা… যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সেগুলো ধ্বংস করে দেব, এবং যোগ করেন, লবণাক্ত পানি পরিশোধন কেন্দ্র… যদি প্রয়োজন হয়, আমরা সেগুলোও ধ্বংস করে দেব। এটা করতে আমার ঘৃণা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো ইরানকে পরমাণুমুক্ত করা
এদিকে ট্রাম্প আরো বলেছেন, ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য হলো দেশটিকে পরমাণুমুক্ত করা। একই সঙ্গে তিনি ইরানের আলোচক দলের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, রুদ্ধদ্বার বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সে বিষয়ে দলটি মিথ্যা বলেছে।
ইরানের পরমাণুমুক্তকরণ বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি জানি না আদৌ কোনো চুক্তি হবে কি না। আমরা হয়তো চুক্তি ছাড়াই এটা করব, কারণ জানেন কী? এটা সহজ।
তবে আলোচনা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবে, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
আবারো অবরোধের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে আবারও অবরোধ আরোপ করতে পারে।
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আবার অবরোধ দিতে পারি। তবে সেটি শুধু ইরানের জন্যই হবে। অন্য সবাই স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবে।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরান সুযোগ পেলে সমুদ্রে মাইন পেতে দেওয়ার চেষ্টা করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ছোট আক্রমণাত্মক নৌযানগুলো ধ্বংস করছে বলে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তারা যদি পারে, কিছু মাইন ফেলবে। কিন্তু সেটা কঠিন, কারণ আমরা এখন সেই ছোট নৌকাগুলো ধ্বংস করছি—যে অস্ত্র দিয়ে আমরা মাদক চোরাকারবারিদেরও দমন করি, একই অস্ত্র ব্যবহার করে।
দুঃসাহসিকতার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হবে: ইরান
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আলী আকবর ভেলায়তি উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন। খবর আলজাজিরার।
ভেলায়তি তার এক্স অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক বাতিলের বিষয়ে ট্রাম্পের মৌখিক স্বীকারোক্তি আবারও এই অঞ্চলকে আগুনের দিকে ঠেলে দিয়েছে।
তিনি লিখেছেন, আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে এই অঞ্চল ছোট দেশগুলোর রাজনৈতিক জুয়া খেলার জায়গা নয়, এবং আমরা বারবার প্রমাণ করেছি যে দুঃসাহসিকতার তাৎক্ষণিক জবাব দেওয়া হয়।
এই উপদেষ্টা আরও বলেন যে, ইরানের আঙুল ট্রিগারে রয়েছে, এবং দেশটি অপমান ও দুঃসাহসিকতার বিরুদ্ধে নীরব থাকবে না।
সূত্র: আলজাজিরা
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


