হরমুজ প্রণালিতে ইরান তার ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার বা বাড়াবাড়ি করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পেন্টাগনের আরব উপদ্বীপ বিষয়ক সাবেক পরিচালক। নিয়ার ইস্ট সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর অধ্যাপক ডেস রোচেস বলেন, সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রস্তুতির কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ইরানের বাধা দেওয়ার সক্ষমতাও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডেস রোচেস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যখন বড় আকারের ট্যাঙ্কার বহরকে নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে যেতে চায়, তখন ইরান এ বিষয়ে কিছুই করতে পারে না।’ তিনি উল্লেখ করেন যে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে তেলের বৃহত্তর বাজারকে ব্যাহত করার পরিবর্তে মূলত তৃতীয় কোনো দেশের একক বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজকেই লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খোলাখুলি বলতে গেলে, আমার মনে হয় ইরান হরমুজ প্রণালির বিষয়ে বাড়াবাড়ি করে ফেলেছে। তার ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রে তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলার—যা তার পূর্বাভাস দেওয়া ২৫০ ডলারের তুলনায় অনেক কম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে এবং দেশটির তেল উৎপাদনও নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, “অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের যে আশঙ্কা আমি এবং প্রায় সব বিশ্লেষকই করেছিলাম, ট্রাম্প কোনোভাবে তা এড়াতে সক্ষম হয়েছেন।”
কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনার সময় ডেস রোচেস বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পুনরায় কোনো সামরিক অভিযান শুরু করে, তবে তা সম্ভবত “আরও ব্যাপক পরিসরে” হবে। এতে লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ (সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত হতে পারে এমন) অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধারের ক্ষমতাও ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে—বিশেষ করে প্রতিবার সংঘাত শুরুর সময় এই দুর্বলতা আরও প্রকট হবে।
তিনি ইরান নীতির ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের মধ্যে একটি মূল পার্থক্যের দিকে ইঙ্গিত করেন: ইসরাইল ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন চায় এবং ইরানকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে একটি গুরুতর আঞ্চলিক হুমকি হিসেবে দেখলেও অস্তিত্বের জন্য হুমকি মনে করে না।
ডেস রোচেস বলেন, কৌশলগত লক্ষ্যগুলো—যেমন ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং তাদের প্রক্সি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা কমিয়ে আনা—অর্জিত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সম্ভবত ভিন্নতা দেখা দেবে (যেমনটা সিরিয়ার ক্ষেত্রে ঘটেছিল)। তখন ইসরাইল চাইবে ইরান যেন তাদের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার সক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে ফেলে; আর যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত “পিছিয়ে আসবে এবং অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের লক্ষ্যে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ওপর নির্ভর করবে।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


