আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের অভিযানে জাপান

আমার দেশ অনলাইন

গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের অভিযানে জাপান

চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে জাপান সোমবার গভীর সমুদ্রে বিরল খনিজ উত্তোলনের লক্ষ্য নিয়ে একটি গবেষণা জাহাজ চালু করেছে। বৈজ্ঞানিক খনন জাহাজ ‘চিকিউ’ স্থানীয় সময় সকাল ৯টায় শিজুওকার শিমিজু বন্দর ত্যাগ করে প্রশান্ত মহাসাগরের দূরবর্তী দ্বীপ মিনামি তোরিশিমা এর উদ্দেশে যাত্রা করে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্বীপটির আশপাশের জলসীমায় বিপুল পরিমাণ বিরল খনিজ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এএফপই জানিয়েছে জাপান এই উদ্যোগ নিচ্ছে এমন সময়, যখন চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল খনিজ সরবরাহকারী হিসেবে জাপানের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। গত নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি’র তাইওয়ান সফরের পর চীনের সঙ্গে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ড দাবি করে এবং প্রয়োজন হলে বলপ্রয়োগের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ দপ্তরের কর্মসূচি পরিচালক শোইচি ইশি বলেন, “আমরা সরবরাহের উৎস বৈচিত্র্যময় করতে চাই এবং নির্দিষ্ট কোনো দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এড়াতে চাই। বিরল খনিজের দেশীয় উৎপাদন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া গড়ে তোলা আমাদের লক্ষ্য।”

বিরল খনিজ বলতে ১৭ ধরনের ধাতু বোঝানো হয়, যা বৈদ্যুতিক যান, হার্ড ড্রাইভ, বায়ু টারবাইন এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার হয়। জ্যামস্টেক জানায়, ৬ হাজার মিটার গভীরে এই পরীক্ষামূলক খনন বিশ্বে প্রথম। মিনামি তোরিশিমার আশপাশে ১ কোটি ৬০ লাখ টনের বেশি খনিজ মজুত রয়েছে, যা বিশ্বে তৃতীয় বৃহত্তম।

খনিজের মধ্যে রয়েছে প্রায় ৭৩০ বছরের ব্যবহারের জন্য ডিসপ্রোসিয়াম, যা মোবাইল ফোন ও বৈদ্যুতিক গাড়ির চুম্বকে ব্যবহৃত হয়। এছাড়া প্রায় ৭৮০ বছরের জন্য প্রয়োজনীয় ইট্রিয়াম আছে, যা লেজার প্রযুক্তিতে ব্যবহৃত হয়।

গবেষক তাকাহিরো কামিসুনা বলেন, “মিনামি তোরিশিমার আশপাশে নিয়মিত উত্তোলনে জাপানের শিল্পখাতের জন্য নিরাপদ দেশীয় সরবরাহ শৃঙ্খল নিশ্চিত হবে। এটি চীনের ওপর জাপানের নির্ভরতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সাহায্য করবে।”

এই অভিযান চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার কারণে চীন জাপানের পণ্য আমদানি বিলম্ব করছে এবং বিরল খনিজ রফতানি শ্লথ হচ্ছে। চলতি মাসে চীন জাপানের কাছে ‘দ্বৈত-ব্যবহারযোগ্য’ কিছু পণ্যের রফতানি বন্ধ করেছে, যা সামরিক কাজে ব্যবহারযোগ্য। এতে জাপানের পক্ষ থেকে চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর চেষ্টা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন