আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

বেইজিংয়ের অনুকূল শর্তে চীনের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বেইজিংয়ের অনুকূল শর্তে চীনের ঘনিষ্ঠ হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার কথিত ‘স্বাধীনতা দিবসে’ বিভিন্ন দেশের ওপর শুল্ক চাপিয়ে দিয়ে কার্যত বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ধারণা করা হয়েছিল, চমকের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও অংশীদারদের নিজের কাছাকাছি করার সুযোগ ছাড়বে না চীন। কিন্তু বাস্তব ঘটনা ঘটেছে তার বিপরীত।

চীনের বাণিজ্যকে সীমাবদ্ধ করতে ট্রাম্প প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে চাওয়া দেশগুলোকে হুমকি দিয়েছে বেইজিং। এছাড়া বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘বিরল মৃত্তিকা’ সরবরাহও সীমাবদ্ধ করেছে চীন। এর মাধ্যমে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, পুরো বিশ্বকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে বেইজিং।

বিজ্ঞাপন

চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য এটি বেপরোয়া জুয়া। যুক্তরাষ্ট্রের আচরণে ভুক্তভোগী মিত্রদের স্বস্তি দেওয়ার বদলে এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের ভোগান্তি আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে বেইজিং চেয়েছে চীনকে অতিক্রম করতে চাওয়া দেশগুলো যাতে অর্থনৈতিক দুর্ভোগ অনুধাবন করে।

বেইজিংয়ের হিসাব অনুযায়ী, তারা শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বিপরীতে চীনের ঘনিষ্ঠ হতে চাইবে। তখন বেইজিংয়ের স্বার্থ অনুযায়ী আরো কিছু করবে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড় করতে ইউরোপ ও কানাডার নেতারা তৎপরতা চালাচ্ছে। একসময় মানবাধিকার, গুপ্তচরবৃত্তি, নির্বাচনে হস্তক্ষেপ ও ভারসাম্যহীন বাণিজ্যের কথা বলে বেইজিংকে দূরে রাখতে চাওয়া দেশগুলো এখন তাকে কাছে টানছে। তবে ট্রাম্প তাদের সমালোচনা করে বলছেন, নিজেদের অর্থনৈতিক দুর্গতির সমাধান হিসেবে চীনের দিকে নজর ফেরানো তাদের জন্য বিপজ্জনক।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষক জোনাথন জিন বলেন, ‘মিত্র দেশগুলোর দুর্ভোগ লাঘবের বদলে তা আরো বাড়িয়ে দিয়ে তাদের ঘনিষ্ঠ হতে বাধ্য করার পথ বেছে নিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের এখন লক্ষ্য লভ্যাংশ বের করে আনা।’

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের গৃহীত নীতিতেও এ বিষয়টি ধরা পড়েছে। বর্তমানে চীন সফরে রয়েছেন তিনি। ২০১৮ সালের পর এটিই প্রথম ব্রিটিশ কোনো নেতার চীন সফর।

তিনি জানিয়েছেন, সফরে তার লক্ষ্য হলো দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের বিষয়ে চুক্তি করা। একইসঙ্গে আরো বিভিন্ন বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এর মধ্যে হংকংয়ের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাকামী আন্দোলনের কর্মী, ব্রিটিশ নাগরিক জিমি লাইয়ের গ্রেপ্তারি অন্তর্ভুক্ত। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সমালোচকরা বলছেন, এর আগেও তিনি বেইজিংয়ের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। লন্ডনে চীনের জন্য বৃহৎ এক দূতাবাসের অনুমোদন দিয়েছেন স্টারমার। এর মাধ্যমে ব্রিটেনে চীনের গুপ্তচরবৃত্তি বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।

একইভাবে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি চলতি মাসে বেইজিং সফর করেছেন। তিনিও এক দশকের মধ্যে প্রথম কানাডার নেতা হিসেবে দেশটিতে সফর করছেন। কানাডার নির্বাচনে চীনের হস্তক্ষেপের অভিযোগকে পাশে ঠেলে তিনিও বেইজিংয়ের সঙ্গে অটোয়ার সম্পর্ককে ‘বাস্তব পদক্ষেপের’ ভিত্তিতে পুনঃস্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি চীনের সঙ্গে ‘কৌশলগত নতুন অংশীদারত্বের’ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন।

জোনাথন জিন বলেন, ‘বেইজিং চমৎকারভাবে খেলছে। গত বছর তারা যা প্রত্যাশা করেছিল, তার চেয়েও বেশি পাচ্ছে তারা।’

চীনা কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, নির্দিষ্ট ভূরাজনৈতিক পার্থক্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে অগ্রসর হতে চায়নি বেইজিং। বেইজিংয়ের রেনমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ওয়াং ইওয়েই বলেন, আমেরিকার মিত্রদের উচিত ওয়াশিংটনের ওপর তাদের নির্ভরশীলতার ঝুঁকিকে প্রসারিত করা। স্বাভাবিকভাবেই চীনকে তারা বেছে নেবে। চীনের প্রভাব সম্মান অর্জন করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...