লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে গোপন সামরিক বিচারের পর অন্তত ৩০ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। একই ধরনের মামলায় আরো প্রায় ৫০ জন মৃত্যুদণ্ডের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।
পূর্ব লিবিয়ার নিয়ন্ত্রণকারী লিবিয়ান আরব আর্মড ফোর্সেসের (এলএএএফ) অধীন সামরিক আদালত এসব রায় দিয়েছে। ২৩ আগস্ট থেকে কয়েক দফায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনে যোগ দেওয়া ও হত্যাকাণ্ডের মতো অভিযোগ আনা হয়েছিল।
অ্যামনেস্টির অভিযোগ, এসব মামলার বিচার ছিল গোপন ও ন্যায়বিচারের মৌলিক মানদণ্ডবহির্ভূত। কয়েকজন অভিযুক্তকে দীর্ঘ সময় গোপনে আটক রাখা হয়েছিল। তাদের কেউ কেউ জিজ্ঞাসাবাদের সময় নির্যাতনের শিকার হয়ে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হওয়ার অভিযোগ করেছেন। এসব স্বীকারোক্তিই পরে আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
লিবিয়া ক্রাইমস ওয়াচ জানিয়েছে, ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পূর্ব লিবিয়ায় সামরিক আদালতের রায়ে ৩১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার তথ্য তারা নথিভুক্ত করেছে। তবে মামলার নথি প্রকাশ না করায় বিচারপ্রক্রিয়ায় আসামিদের ন্যায্য বিচারের অধিকার কতটা নিশ্চিত করা হয়েছিল, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন।
জাতিসংঘও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। লিবিয়ায় জাতিসংঘের সহায়তা মিশন (ইউএনএসএমআইএল) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পূর্ব লিবিয়ায় ৩০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে। মিশনটি অবিলম্বে আরো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মতে, এসব মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের মধ্য দিয়ে লিবিয়ায় প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে আসা মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এক ধরনের স্থগিতাবস্থার অবসান হয়েছে। একই সঙ্গে জাতিসংঘ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মামলাগুলো পুনর্বিবেচনা এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায্যতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সামরিক আদালতে বেসামরিক ব্যক্তিদের বিচার এবং স্বচ্ছতার ঘাটতি লিবিয়ার বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে পূর্বাঞ্চলীয় কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদ-সংশ্লিষ্ট অভিযোগ ছিল। মামলার পূর্ণ নথি প্রকাশ না হওয়ায় এসব বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা কঠিন।
এদিকে ২০১১ সালে মুয়াম্মার গাদ্দাফির পতনের পর থেকে লিবিয়া রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে বিভক্ত। পূর্বাঞ্চলে এলএএএফের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, আর পশ্চিমাঞ্চলে ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার রয়েছে। এই দীর্ঘস্থায়ী বিভক্তির মধ্যেই সামরিক আদালত ও মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

