আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভের অধিকার কঠোরভাবে সীমিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ

আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাজ্যে বিক্ষোভের অধিকার কঠোরভাবে সীমিত হয়েছে: এইচআরডব্লিউ

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিক্ষোভের অধিকার মারাত্মকভাবে সীমিত করা হয়েছে এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। বৃহস্পতিবার লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

‘সাইলেন্সিং দ্য স্ট্রিটস: দ্য রাইট টু প্রোটেস্ট আন্ডার অ্যাটাক ইন দ্য ইউকে’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি বলেছে, যুক্তরাজ্য এমন দেশগুলোর কৌশল অনুসরণ করছে, যেখানে গণতান্ত্রিক নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতা ধীরে ধীরে ক্ষয় হচ্ছে। প্রতিবেদনের প্রকাশের কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই লন্ডনে একটি বিক্ষোভে সুইডিশ পরিবেশকর্মী গ্রেটা থানবার্গকে আটক করা হয়; পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ওই বিক্ষোভটি নিষিদ্ধ ঘোষিত প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের সমর্থনে আয়োজন করা হয়েছিল।

এইচআরডব্লিউ’র গবেষক লিডিয়া গ্যাল বলেন, বিক্ষোভ দমনে যুক্তরাজ্যের বর্তমান পদক্ষেপগুলো গভীর উদ্বেগজনক। এক বিবৃতিতে সংগঠনটি অভিযোগ করে, লেবার সরকার বিক্ষোভের অধিকার রক্ষার বদলে সেটিকে আরও সংকুচিত করার পথে এগোচ্ছে।

২০২৪ ও ২০২৫ সালের গবেষণার ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে ক্রমবর্ধমান হারে মানুষকে আটক করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং কিছু ক্ষেত্রে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ডও দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ভবিষ্যৎ কর্মসূচি পরিকল্পনার সভায় অংশ নেওয়ার মতো কার্যক্রমও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এইচআরডব্লিউ মনে করিয়ে দেয়, ২০২৩ সালে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকার বিক্ষোভসংক্রান্ত আইনগুলোতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। সংগঠনটি প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন বর্তমান লেবার সরকারের সমালোচনা করেছে, কারণ এসব আইন এখনো বাতিল করা হয়নি।

এইচআরডব্লিউ’র যুক্তরাজ্য পরিচালক ইয়াসমিন আহমেদ বলেন, সরকার আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান দেখাতে চাইছে। তবে মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে পরিচিত স্টারমারের কাছ থেকে এমন অবস্থান বিস্ময়কর। তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের কঠোর আইন ভবিষ্যতে যে কারোর বিরুদ্ধেই প্রয়োগ করা হতে পারে।

সংগঠনটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, বিক্ষোভের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য। এইচআরডব্লিউ’র তথ্যমতে, জুলাই মাসে সংগঠনটি নিষিদ্ধ ঘোষণার পর থেকে এর সমর্থনে অন্তত ২ হাজার ৩০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন