ক্যাঙ্গারু ভ্রূণ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের সাফল্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ক্যাঙ্গারু ভ্রূণ তৈরিতে অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীদের সাফল্য

ক্যাঙ্গারু, নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে উঠে দুই পায়ে ভর করে লাফিয়ে বেড়ানোর একটি প্রাণী। যে তার সন্তানকে নিজের পেটে করে ঘুরে বেড়ায়। বিশ্বের সব দেশে প্রাণীটিকে দেখা গেলেও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় প্রাণী হিসেবে স্বীকৃত এটি। কিন্তু ধীরে ধীরে প্রাণীটির সংখ্যা কমছে।

তবে এবার আশার কথা হলো, এর বিলুপ্তি ঠেকাতে সফল হয়েছেন দেশটির বিজ্ঞানীরা। আইভিএম বা ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতির মাধ্যমে প্রথম এর ভ্রূণ তৈরি করেছেন তারা। তাদের মতে, এই গবেষণা অন্যান্য প্রজাতির মতো এটিকেও বিলুপ্ত হওয়া থেকে রক্ষা করবে।

বিজ্ঞাপন

ক্যাঙ্গারু মার্সুপিয়াল গোত্রের এক ধরনের স্তন্যপায়ী প্রাণী। এতে রক্ষায় কাজ শুরু করেন কুইন্সল্যান্ড ইউনিভার্সিটির একদল গবেষক। গবেষণার প্রথম ধাপে দেশটির পূর্বাঞ্চল থেকে ধূসর রঙা ক্যাঙ্গারুদের নমুনা সংগ্রহ করেন। পরে ইন্ট্রাসাইটোপ্লাজমিক স্পার্ম ইনজেকশন (আইসিএসআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পরিপক্ব ডিম্বাণুতে একক শুক্রাণু প্রবেশ করানো হয়। তবে প্রাণীটিকে জীবিত জন্ম নেওয়ানোর আরো কাজ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতি প্রয়োজন। এমনটাই জানিয়েছেন গবেষকরা।

গবেষণার প্রধান ড. আন্দ্রেস গাম্বিনি এই সাফল্যকে বিপন্ন মার্সুপিয়াল প্রজাতি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক বিশাল পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মারসুপিয়াল প্রজাতি রয়েছে, তবে একই সঙ্গে এখানেই স্তন্যপায়ী প্রাণীর বিলুপ্তির হার সবচেয়ে বেশি। তাই তাদের লক্ষ্য কোয়ালা, তাসমানিয়ান ডেভিল, নর্দার্ন হেয়ারি-নোজড ওয়োমব্যাট এবং লিডবেটার’ পোসামের মতো বিপন্ন প্রজাতি সংরক্ষণে কাজ করা।

এখন পর্যন্ত গবেষক দলটি আইসিএসআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০টিরও বেশি ক্যাঙ্গারু ভ্রূণ তৈরি করেছেন। প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত শুক্রাণু এবং ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়েছে বন্যপ্রাণী হাসপাতালে মারা যাওয়া ক্যাঙ্গারু থেকে।

অস্ট্রেলিয়ায় মার্সুপিয়াল প্রজাতিগুলো কতটা আইকনিক এবং জীববৈচিত্র্যে তারা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তা সত্ত্বেও এত দিন এই প্রাণীটিকে নিয়ে কোনো কাজই করা হয় বলে জানান বিজ্ঞানীরা।

বিশ্বজুড়ে বিপন্ন প্রজাতির সংরক্ষণের চেষ্টা এবং এর প্রজনন বাড়াতে আইভিএফ একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। গত বছর, বিজ্ঞানীরা কেনিয়ায় ল্যাব-তৈরি গণ্ডার ভ্রূণকে সফলভাবে একটি সারোগেট মাদারে স্থানান্তর করে বিশ্বের প্রথম আইভিএফ গণ্ডার তৈরি করেছিল। ২০১৮ সালে, বিশ্বের প্রথম গাধার ভ্রূণ তৈরির জন্যও আইভিএফ ব্যবহার করা হয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: