যেভাবে জর্জ সরোস মোদির ‘এক নম্বর শত্রু’ হলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

যেভাবে জর্জ সরোস মোদির ‘এক নম্বর শত্রু’ হলেন

চলতি বছরের নভেম্বরে ভারতীয় পার্লামেন্টে শীতকালীন অধিবেশন শুরু হয় ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ও বিরোধী দলগুলোর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের মধ্য দিয়ে। আর এটি ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে।

এরই মধ্যে এক বছরের বেশি সময় ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মণিপুর রাজ্যজুড়ে বিরাজ করছে অস্থিরতা ও উত্তেজনা, যা এখনো চলমান রয়েছে। আর এজন্য স্থানীয় বিজেপি সরকারকে দায়ী করছেন সমালোচকরা। অশান্ত পরিস্থিতির কারণে জিডিপির উন্নতির পারদও নিচের দিকে নামছে। এমন সব ঘটনাপ্রবাহের মাঝেই দেশটির অন্যতম ধনী ব্যক্তি গৌতম আদানি আমেরিকায় দুর্নীতির অভিযোগের মুখোমুখি হচ্ছেন।

বিজ্ঞাপন

বিরোধীদের সমালোচনা থেকে রেহাই পেতে ডিসেম্বরের মাঝামাঝিতে বিজেপির সদস্যরা বিদেশি এক ব্যক্তিকে সামনে নিয়ে আসেন, যার নাম জর্জ সরোস। সরোস ভারতে অস্থিরতা তৈরির জন্য বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়ন করেছেন, এমন অভিযোগ আনে বিজিপি।

২০২৩ সালের শুরু থেকেই হাঙ্গেরীয়-মার্কিন এই ধনকুবের বিজেপির আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে ভারতকে অস্থিতিশীল করতে তিনি দেশটির বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষ ও মোদির সমালোচকদের অর্থ সহায়তা করছেন। এই আক্রমণ আরও জোরালো হয় ২০২৪ সালের পার্লামেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে। এই নির্বাচনে গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বিজেপি তাদের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারায়। যদিও শেষ পর্যন্ত তারা জোট তৈরি করে সরকার গঠন করে।

কিন্তু এই আক্রমণ সম্প্রতি আরও বেড়েছে। বিজেপি অভিযোগ করছে, সরোসের সঙ্গে মিলে আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর মোদির ক্ষমতা খর্বের চেষ্টা চালাচ্ছে।

গত ৫ ডিসেম্বরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সিরিজ পোস্টের মাধ্যমে বিজেপি অভিযোগ করেছে, সরোস ফাউন্ডেশন ও আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তা নিয়ে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধীদলীয় কংগ্রেস নেতারা একদল অনুসন্ধানী সাংবাদিকের কাজকে ব্যবহার করেছেন। তারা ভারতের অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র নিয়ে মোদি সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে কাজ করছেন।

আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের বিরুদ্ধে এই মন্তব্য অনেক বিশ্লেষককেই বিস্মিত করেছে। কেননা ভারতের ঘনিষ্ঠতম কৌশলগত মিত্রের মধ্যে আমেরিকা অন্যতম। তবে কেউ কেউ মনে করছেন এটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রচারণা মাত্র। একই সঙ্গে এর মাধ্যমে আমেরিকার আসন্ন ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মোদি সরকারের সংযোগ তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আদানিকে নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন জর্জ সরোস। মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে তিনি বলেন, আদানিকে নিয়ে সংকট ভারতীয় সরকারের ওপর মোদির কঠোর নিয়ন্ত্রণকে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল করবে।

তখন থেকেই মোদির দলের কাছ থেকে আক্রমণের শিকার হয়ে আসছেন এই বিলিয়নেয়ার। তৎকালীন নারী ও শিশু উন্নয়ন-বিষয়ক মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশনের এই প্রতিষ্ঠাতাকে ভারতের গণতন্ত্রে হস্তক্ষেপের দায়ে অভিযুক্ত করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর তাকে ‘একগুঁয়ে বিপজ্জনক ব্যক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে নয়াদিল্লির সেন্টার ফর পলিসি রিসার্চের (সিপিআর) গবেষক নীলাঞ্জন সরকার বলেন, ‘সরোস এক সহজ লক্ষ্যবস্তু। তার অর্থ আছে, ফলে মোদির জন্য অনায়াসেই তিনি সমস্যাজনক। তবে এগুলোই তার প্রতি বিরূপ ধারণা জন্মানোর জন্য একমাত্র কারণ নয়, বরং একশ্রেণির সামাজিক ও রাজনৈতিক কুশীলবদের সঙ্গে তার কথিত যোগাযোগের কথা বলে ভারতের মধ্যে তাকে খলনায়কের অবস্থানে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বিজেপি।’

কংগ্রেস ও সরোসের মধ্যে গভীর সম্পর্কের কথা বলে তার বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছে বিজেপি। তবে কংগ্রেস এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপির সরোসবিরোধী প্রচারণা সম্পর্কে দলটি বলছে, মণিপুরের সংকট, ভারতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও আমেরিকায় আদানির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগকে আড়াল করতেই এই প্রচারণা চালাচ্ছে তারা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন