ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সদ্য ঘোষিত অর্থনৈতিক যুদ্ধ ওয়াশিংটনের জন্য আরেকটি পরাজয় ডেকে আনবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণা ইরানিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাব আরো গভীর করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ‘তথাকথিত ইকোনমিক ডি-ডে’ প্রকৃতপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সংকট থেকে দৃষ্টি সরানোর একটি কৌশল। দেশটির ঋণ নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং সুদের ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যর্থ নীতির ওপর জোর দেওয়া হলে তা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরো পরাজয় বয়ে আনবে এবং ইরানিদের মধ্যে আরো বেশি মার্কিন বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে।’
আরাগচি আরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কথিত ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বিশ্বজুড়ে দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে।
ট্রাম্প বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক অভিযান ঘোষণার পর আরাগচি এ মন্তব্য করেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে ‘কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বিধ্বংসী অর্থনৈতিক অভিযান’ ঘোষণার কথা জানান। ট্রাম্প বলেন, ইরান চুক্তির সুযোগ গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে দেশটিকে ‘নজিরবিহীন মাত্রায় অর্থনৈতিক যুদ্ধ ও বিচ্ছিন্নতার’ মুখে পড়তে হবে।
ট্রাম্প বলেন, তেহরানকে সহায়তা দেওয়া আর্থিক ও বাণিজ্যিক চ্যানেলগুলো বন্ধ করতে ওয়াশিংটন উদ্যোগ নেবে। একই সঙ্গে যে সব দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর বা সরকারি সংস্থা ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এ ছাড়া মার্কিন মিত্রদেরও ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: আনাদোলু
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


