আমেরিকায় বসবাসকারী অস্থায়ী প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীকে ‘অস্থায়ী বৈধতা’ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ‘টেম্পোরারি প্রোটেকশন স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস নামে এই প্রোগ্রামের আওতায় পড়বে আল সালভেদর, সুদান, ইউক্রেন ও ভেনিজুয়েলার অভিবাসী, যারা বর্তমানে আমেরিকায় বসবাস করছে। বসবাসের পাশাপাশি এসব অভিবাসী ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করতে পারবে। এ ছাড়া বিতাড়ন কর্মসূচি থেকেও সুরক্ষিত থাকবে তারা। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার সালভাদোরান, ১৯০০ সুদানি, ১ লাখ ৪ হাজার ইউক্রেনীয় এবং ৬ লাখ ভেনিজুয়েলার নাগরিক উপকৃত হবে।
অভিবাসীদের নিয়ে ট্রাম্পের সমালোচনা তীব্র উপেক্ষা করেই শুক্রবার এমন ঘোষণা দেয় বাইডেন প্রশাসন।
এল সালভাদরের জন্য টিপিএস প্রোগ্রাম ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত আর সুদান, ইউক্রেন এবং ভেনিজুয়েলার জন্য একই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হবে। বাইডেন প্রশাসনের এই উদ্যোগ এসব অভিবাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টিপিএস কমানোর কথা ভাবছেন। একই সঙ্গে বাইডেন প্রশাসনের নেওয়া অভিবাসন নীতি বাতিল করার পাশাপাশি কঠোর অভিবাসন আইন প্রণয়ন এবং গণনির্বাসন অভিযান শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সরকার ৬০ দিনের নোটিস দিলে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্টের সেক্রেটারি টিপিএস নামকরণ বাতিল করতে পারবেন।
এদিকে, ট্রাম্প ও তার নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উভয়ই টিপিএসের বিরোধিতা করেছেন। আর রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা এবং অভিবাসন সমর্থকরাও দীর্ঘদিন ধরে এতে অযৌক্তিক বলে দাবি করে আসছিলেন। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য ‘টিপিএস সুরক্ষা’ বন্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু আইনি জটিলতায় শেষ পর্যন্ত সেই প্রচেষ্টা স্থগিত হয়ে যায়।
বাইডেন সরকারের এমন পদক্ষেপ ট্রাম্পের অভিবাসন বিতাড়ন কর্মসূচিতে বাধাগ্রস্ত করবে বলে মনে করছেন প্রগতিশীল অ্যাক্টিভিস্টরা। কারণ সরকারি হিসাবে, ভেনিজুয়েলার জন্য টিপিএস কর্মসূচি পুনর্নির্ধারণ করা হলে অতিরিক্ত ৪ লাখ ৫০ হাজার অভিবাসী নতুন করে এই সুবিধা পাবে।
২০২২ সালের শুরুর দিকে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানো পর ইউক্রেনের নাগরিকরা ক্যালিফোর্নিয়া-মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে এ দেশে প্রবেশ করে টিপিএস সুবিধার আওতায় আসে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

