আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

আমার দেশ অনলাইন

সুদানে আরএসএফ ও সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

সুদানের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে নতুন করে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার দারফুর ও কর্দোফান অঞ্চলে উভয় পক্ষ একে অপরের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালায়। সামরিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম দারফুরের জালিংগেই শহরে সেনাবাহিনী হামলা চালিয়েছে। শহরটি বর্তমানে আরএসএফ-এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হামলার পর একটি ভবন থেকে ধোঁয়া ও আগুন উঠতে দেখা যায়। সামরিক সূত্রের দাবি, ভবনটি আরএসএফ-এর একটি গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

অন্যদিকে, দক্ষিণ কর্দোফানের ডিলিং শহরে আরএসএফ ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সম্প্রতি সেনাবাহিনী সেখানে আরএসএফ-এর দীর্ঘদিনের অবরোধ ভেঙে দেওয়ার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। ড্রোনটি একটি সরকারি মানবিক সহায়তা সংস্থার কার্যালয়ে আঘাত হেনেছে বলে জানা গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে চলমান যুদ্ধে ডিলিং শহরটি অন্যতম প্রধান সংঘর্ষকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

সামরিক সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে ডিলিংয়ের আশপাশে দুটি করিডোর খোলার ঘোষণা দেওয়ার পর সেনাবাহিনী দক্ষিণ কর্দোফানের রাজধানী কাদুগলির দিকে অগ্রসর হতে শুরু করেছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের কারণে কাদুগলি শহরের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ—সংখ্যায় আনুমানিক ১ লাখ ৪৭ হাজার—নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। গত অক্টোবরে দারফুরে সেনাবাহিনীর শেষ ঘাঁটি এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফ এখন উর্বর ও বিস্তৃত কর্দোফান অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিয়েছে।

দক্ষিণ কর্দোফানের পরিস্থিতিকে ‘সুদানের সবচেয়ে বিপজ্জনক ও উপেক্ষিত এলাকা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) মহাসচিব জ্যান এগেল্যান্ড। অঞ্চলটি পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, পুরো শহরের মানুষ চরম খাদ্যসংকটে ভুগছে এবং প্রাণ বাঁচাতে সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তিনি এটিকে একটি মানবসৃষ্ট দুর্যোগ বলে উল্লেখ করে সতর্ক করেন, পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

জাতিসংঘ আগেই সতর্ক করেছে, কর্দোফানেও এল-ফাশের মতো গণহত্যা ও গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। এল-ফাশের পতনের পর আরএসএফ-এর বিরুদ্ধে বেসামরিক মানুষ হত্যা, যৌন সহিংসতা ও অপহরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল।

সেনাবাহিনী ও তাদের সাবেক মিত্র আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ এই সংকটকে বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন