পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে চলমান বিক্ষোভে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সেখানে প্রাণ হারিয়েছেন ২৪ জন, এছাড়া আরো ৯৭ জন আহত হয়েছেন। ৫১৫ জনকে আটক করা হয়েছে বলে শনিবার এক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। বিক্ষোভের জেরে অঞ্চলজুড়ে ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ ও ইন্টারনেট সেবা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি এখনো উত্তেজনাপূর্ণ।
শনিবার এএফপি, স্কাই নিউজ ও রয়টার্সের পৃথক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে এ তথ্য।
গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে রয়েছে স্থানীয় বিক্ষোভকারীগণ। প্রতিবেদন অনুযায়ী আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া স্থানীয় ৪৫ আসনের আইনসভা নির্বাচনে ভারত-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীর থেকে আসা শরণার্থীদের জন্য ১২টি আসন সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ শুরু হয়, যার নেতৃত্বে ছিল সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষিত নাগরিক অধিকার সংগঠন- জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালে জম্মু-কাশ্মিরের দু’টি অঞ্চল দখল করে পাকিস্তান— আজাদ কাশ্মীর এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান। দুটিই পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং দুটিতেই প্রাদেশিক আইনসভা বা বিধানসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মীরের বিধানসভায় আসনসংখ্যা ৪৫টি। সেই ৪২টি আসনের মধ্যে আবার ১২টি আসন ভারতের জম্মু-কাশ্মীর থেকে যাওয়া উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।
আজাদ কাশ্মিরের পুলিশপ্রধান লিয়াকত আলী মালিক এএফপিকে বলেছেন, বিক্ষোভের মূল কেন্দ্র এখন রাওয়ালকোট শহর। এই শহরটি আজাদ কাশ্মীরের রাজধানী মুজাফফরাবাদ থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণে।
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে কারফিউ জারি করেছে পুলিশ। শহরের মূল সড়কগুলো এবং ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে; ব্যাপকমাত্রায় সীমিত করা হয়েছে সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতিও।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


