যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ব্যক্তিগত জীবন ও বিয়ে নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। তার প্রথম স্বামী আহমেদ হিরসির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু দাবি করেছেন, ইলহানের কথিত ভাই আহমেদ নুর সাঈদ এলমি মিনেসোটায় তাদের সঙ্গে থাকতে আসার পর দাম্পত্য সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। এলমিকে নিয়ে হিরসি অস্বস্তি প্রকাশ করতেন বলেও দাবি করেছেন ওই ব্যক্তি।
তবে এসব দাবি ওই পারিবারিক বন্ধুর বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। ইলহান ওমর, হিরসি কিংবা এলমির পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ইলহান ওমর দীর্ঘদিন ধরে এলমিকে বিয়ে করে অভিবাসনসুবিধা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
ইলহান ও হিরসির ২০০২ সালে একটি ইসলামি ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তান থাকার সময় ২০০৯ সালে তারা আলাদা হয়ে যান। একই বছর ইলহান ব্রিটিশ নাগরিক এলমিকে আইনগতভাবে বিয়ে করেন। ওই বিয়ে ২০১৭ সাল পর্যন্ত বহাল ছিল। তবে এলমিকে বিয়ে করার উদ্দেশ্য নিয়ে বহু বছর ধরে বিতর্ক রয়েছে।
হিরসির এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলেন, এলমি মিনেসোটায় আসার পর সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তার পোশাক-পরিচ্ছদ ও চলাফেরা নিয়ে অনেকে কথা বলতেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
নিজের পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে তিনি বলেন, এলমির পোশাক দেখে তিনি হিরসির কাছে বিষয়টি জানতে চেয়েছিলেন। তখন হিরসি তাকে বলেছিলেন, এলমি তার স্ত্রীর ভাই এবং লন্ডন থেকে এসেছেন। এলমিকে সেখানে নিয়ে আসায় ইলহান পুরো সম্প্রদায়কে বিব্রত করেছেন বলেও হিরসি মন্তব্য করেছিলেন বলে দাবি করেন ওই বন্ধু।
ওই ব্যক্তির ভাষ্য, মিনিয়াপোলিসের সোমালি সম্প্রদায়ের অনেকে এলমির পরিচয় জানার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তারা জানতে পারেন, এলমি নুর সাঈদ এলমির ছেলে এবং ইলহান ওমরের ভাই বলে পরিচিত।
হিরসির ওই বন্ধু আরো দাবি করেন, এলমিকে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে থাকার কাগজপত্র পেতে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে ইলহান তাকে আইনগতভাবে বিয়ে করেছিলেন বলে হিরসি অভিযোগ করতেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে ওই প্রতিবেদনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
হিরসি মিনেসোটার সোমালি সম্প্রদায়ের মধ্যে পরিচিত ও জনপ্রিয় ছিলেন। তার ডাকনাম ছিল ‘সাউথ সাইড’। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে তার ভালো যোগাযোগ ছিল এবং বিভিন্ন সামাজিক বিষয় সম্পর্কে তিনি খোঁজখবর রাখতেন বলে দাবি করেছেন ওই বন্ধু।
তার দাবি, এলমিকে নিয়ে ইলহান ও হিরসির মধ্যে প্রায়ই তর্ক হতো। এমনকি জনসম্মুখেও তাদের চিৎকার করে কথা বলতে দেখেছেন তিনি। এলমি ২০১২ সালের দিকে মিনেসোটা ছেড়ে চলে গেলে হিরসি স্বস্তি পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেন ওই ব্যক্তি।
হিরসি এলমিকে নিজের সন্তানদের কাছাকাছি দেখতে চাইতেন না বলেও অভিযোগ করেছেন ওই বন্ধু। ইলহান ও হিরসির সন্তান ইসরা হিরসি ও আদনান হিরসির কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এলমির জীবনযাপন তাদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে হিরসি উদ্বিগ্ন ছিলেন। তাদের তৃতীয় সন্তান ইলওয়াদের জন্ম হয় ২০১২ সালে, যখন ইলহানের সঙ্গে এলমির আইনগত বিয়ে বহাল ছিল।
বিয়ে নিয়ে পুরোনো বিতর্ক
ইলহান ওমর ১৯৯৫ সালে সোমালিয়া থেকে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তার প্রথম স্বামী হিরসির সঙ্গে ২০০২ সালে বিয়ের আবেদন করা হলেও ইলহান পরে বলেছিলেন, আবেদনটি চূড়ান্ত করা হয়নি এবং তাদের আইনগত বিয়েও হয়নি।
ইলহানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০৮ সালে তাদের বিচ্ছেদ হয় এবং প্রায় চার বছর পর তারা আবার একত্র হন। ২০১৮ সালে তারা আইনগতভাবে বিয়ে করেন। অন্যদিকে, এলমির সঙ্গে ইলহানের আইনগত বিয়ে ছিল ২০০৯ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ইলহানের দাবি, এলমির সঙ্গে তাদের বিচ্ছেদ হয় ২০১১ সালে, তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরো কয়েক বছর লেগেছিল।
ইলহান ও হিরসি ২০১৪ ও ২০১৫ সালে যৌথভাবে করসংক্রান্ত নথি জমা দিয়েছিলেন, যখন ইলহানের সঙ্গে এলমির আইনগত বিয়ে বহাল ছিল। পরে ওই নথিগুলো সংশোধন করা হয়। ইলহান ও হিরসি শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে আলাদা হয়ে যান। বর্তমানে ইলহান তার সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা টিম মাইনেটকে বিয়ে করেছেন।
এলমি যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় কিছু সময় কাটান এবং পরে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। বর্তমানে তিনি ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৩ সাল থেকে সেখানে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জনের কাজ করেছেন এবং গবেষণা সহকারী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে কুইয়ার গবেষণা, উপনিবেশমুক্তকরণ এবং লিঙ্গবিষয়ক গবেষণা।
ইলহান ওমরের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অভিযোগগুলো ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। তবে তিনি এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছেন। নতুন দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


