‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের

‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের
ছবি: সংগৃহীত

ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিবেকের কারণে কেউ যদি ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাইতে অস্বীকার করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ফৌজদারি বা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না বলে জানিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে ভারতের কেন্দ্র সরকারের কাছে এ বিষয়ে জবাব তলব করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বন্দে মাতরম নিয়ে একটি মামলার শুনানিতে মৌখিকভাবে দেওয়া পর্যবেক্ষণে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এই বার্তা দেয়।

বিজ্ঞাপন

বিচারপতিরা মৌখিকভাবে বলেন, জাতীয় গানের সংজ্ঞা নিরূপণ করা আদালতের এখতিয়ারের বাইরে। তবে কোনো নাগরিক যদি বিবেকজনিত কারণে গানটি গাইতে না চান, তাকে যাতে বাধ্য করা না হয়, সেটা আদালত খতিয়ে দেখতে পারে।

কর্ণাটকের সংগীতশিল্পী টি এম কৃষ্ণার রিট পিটিশনটি দায়ের করেন। ২০২৬ সালের ‘জাতীয় সম্মানের অবমাননা প্রতিরোধ সংশোধনী আইন’-এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মামলাটি দায়ের করা হয়। এই সংশোধিত আইনে জাতীয় সংগীত ‘জনগণমন’-এর মতোই ‘বন্দে মাতরম’কে আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং এটি গাওয়ায় বাধা দিলে বা ব্যাঘাত সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে সরকারি ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চে বন্দে মাতরমের আগের দুটি স্তবকের পরিবর্তে পুরো ছয়টি স্তবকই গাওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।

আবেদনকারীর পক্ষে প্রবীণ আইনজীবী এস মুরলীধর আদালতে যুক্তি দেন, বন্দে মাতরমের শেষের চারটি স্তবকে হিন্দু দেবদেবীদের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। ফলে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সব স্তবক গাইতে বাধ্য করা এবং তা না গাইলে শাস্তির ভয় দেখানো নাগরিকদের মতপ্রকাশ ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থি।

শুনানি চলাকালীন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক ‘বিজয়ে ইমানুয়েল’ মামলার রায়ের কথা উল্লেখ করেন। সেই বিখ্যাত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে কেউ যদি জাতীয় সংগীতে কণ্ঠ না মিলিয়ে কেবল শান্ত ও শ্রদ্ধাপূর্ণ ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকে, তাহলে তা কোনোভাবেই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। শীর্ষ আদালত কেন্দ্রকে মনে করিয়ে দেয় যে দেশের সেই প্রতিষ্ঠিত আইনি নজির এখনো অটুট এবং বন্দে মাতরমের ক্ষেত্রেও একই নীতি বজায় থাকবে বলে তারা প্রত্যাশা করেন।

সূত্র: দ্য ওয়াল/আনন্দবাজার অনলাইন

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন