যুদ্ধে পাকিস্তানকে তুরস্কের সমর্থন, গ্রিক সাইপ্রাসে ছুটে গেলেন মোদি

যুদ্ধে পাকিস্তানকে তুরস্কের সমর্থন, গ্রিক সাইপ্রাসে ছুটে গেলেন মোদি

ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেদ্র মোদি গ্রিক-নিয়ন্ত্রিত সাইপ্রাসে ছুটে গেছেন। দুই দেশের যুদ্ধের সময় তুরস্ক পাকিস্তানকে সমর্থন দেওয়ায় দেশটিকে উপেক্ষা করতে চান মোদি। তারই অংশ হিসেবে সাইপ্রাস দ্বীপটি ইউরোপ ও ভারতের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক করিডোর বানাতে চান। অবশ্য তুরস্কও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের অংশগ্রহণ ছাড়া এই প্রকল্প সফল হবে না।

দক্ষিণ সাইপ্রাসে সফরকারী প্রথম ভারতীয় নেতা হিসেবে মোদির এই সফর ঘটল এমন এক সময়ে, যখন মাত্র এক মাস আগে ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও জেট বিমান হামলা চালিয়েছে — যা বিগত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র সামরিক উত্তেজনা।

বিজ্ঞাপন

ওই সংঘর্ষে পাকিস্তান একাধিক ভারতীয় যুদ্ধবিমান, যার মধ্যে রাফালও ছিল, ভূপাতিত করে – যা মোদি সরকারের জন্য বড় ধাক্কা।

তুরস্কই প্রথম দেশ যারা ইসলামাবাদকে সমর্থন জানিয়ে ভারতের বিমান হামলার নিন্দা করে, যেখানে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছিল। এতে দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা সৃষ্টি হয়।

তুরস্কের যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির আহ্বান এবং পাকিস্তানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন মোদির ডানপন্থী হিন্দু জাতীয়তাবাদী সমর্থকদের মধ্যে তীব্র বিরূপ মনোভাব সৃষ্টি করে।

ভারত দীর্ঘদিন ধরে একটি সমুদ্র ও রেলভিত্তিক বাণিজ্য পথ — ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ করিডোর (IMEC) — গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

IMEC হলো পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন ‘পার্টনারশিপ ফর গ্লোবাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট (PGII)’ উদ্যোগের অংশ, যার লক্ষ্য বিশ্বজুড়ে অবকাঠামোগত প্রকল্পে বিনিয়োগ।

এর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান ঘোষণা দেন, তুরস্কের সহযোগিতা ছাড়া এই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয় — কারণ সবচেয়ে উপযুক্ত পথটি পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে গিয়ে তুরস্কের মধ্য দিয়েই যায়।

জাতিসংঘের নেতৃত্বে দীর্ঘকাল ধরে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সাইপ্রাসে গ্রিক ও তুর্কি সাইপ্রিয়টদের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ এখনো অবসান হয়নি।

আঙ্কারা বারবার তুর্কি সাইপ্রিয়টদের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়ে আসছে এবং দ্বীপ সমস্যার সমাধানে দুটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভিত্তিতে সমাধান চায়।

এরদোয়ান একাধিকবার জোর দিয়ে বলেছেন, ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় দুটি সমান মর্যাদার স্বাধীন রাষ্ট্রের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন