দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে একের পর এক পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজ দেশে বসবাসকারী হাজার হাজার অবৈধ অভিবাসীকে শুধু নিজ দেশ থেকে বিতাড়নই নয়, এবার তাদের গুয়ান্তানামো বে কারাগারে পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এমন পরিকল্পনায় হতবাক দেশটির সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সময় বুধবার এ কথা জানান তিনি। তার এই পরিকল্পনা প্রকাশের মধ্য দিয়ে অবৈধ অভিবাসীদের প্রতি কঠোর মনোভাব ও তার বাস্তবায়ন স্পষ্ট।
কিউবার গুয়ান্তানামো বে কারাগার নয়, পরিচিত এ স্থাপনায় নাইন-ইলেভেনের হামলার পর থেকে সন্দেহভাজন ‘সন্ত্রাসীদের’ বন্দি করে রা রেখেছে আমেরিকা। সেই কারাগারে এবার ৩০ হাজার নথিবিহীন অভিবাসীকে পাঠানো এবং সেখানে আটকে রাখার কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কারণ, এসব শরণার্থীকে তিনি নিজ দেশের জনগণের জন্য বিপজ্জনক এবং ‘ভিনগ্রহের এলিয়েন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, খুব তাড়াতাড়ি এই কারাগারের ধারণক্ষমতা দ্বিগুণ করা হবে।
এদিকে বুধবার ট্রাম্পের ‘বর্ডার যার’ হিসেবে পরিচিত টম হোম্যান বলেছেন, গুয়ান্তানামো বে কারাগারের বর্তমান সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হবে এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এর কার্যক্রম পরিচালনা করবে। আমেরিকায় প্রবেশের সময় কোস্ট গার্ডের কাছে আটক হওয়া ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের পর সরাসরি সেখানে পাঠানো হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর টুইন টাওয়ারসহ কয়েকটি স্থাপনায় হামলার ঘটনায় আফগানিস্তান, ইরাক ও আরও কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে সেনা অভিযান চালায় তারা। অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের রাখা হতো এই কারাগারে। এখানে এখনো ১৫ জ বন্দি রয়েছেন। একসময় কারাগারটিতে একসঙ্গে ৮০০ জনকে বন্দি করে রাখা হয়েছিল।
তবে এসব বন্দির সঙ্গে শরণার্থীদের রাখা হবে না বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। নতুন বন্দিদের জন্য নতুন করে বন্দিশিবির তৈরি হবে বলেও জানান তিনি। তবে এটি তৈরিতে কত খরচ হবে আর কবেনাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে, সে বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এ ঘটনাকে ‘নৃশংস তৎপরতা’ বলে মন্তব্য করেছে কিউবা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

