গাজায় বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছেন অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল সোর। প্রামাণ্যচিত্রটির নাম ‘নাজা’। এতে ফিলিস্তিনিদের হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত গোপন প্রযুক্তি ও পদ্ধতির বিষয়ে ২৪ জন ইসরাইলি সামরিক কর্মকর্তার সাক্ষ্য তুলে ধরা হয়েছে।
গার্ডিয়ানের প্রযোজনায় নির্মিত এই প্রমাণ্যচিত্রটি ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গোল্ডেন লায়ন প্রতিযোগিতায় একমাত্র তথ্যচিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির নাম নেওয়া হয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর একটি সংক্ষিপ্ত শব্দ বা অ্যাক্রোনিম থেকে; সামরিক হামলায় বেসামরিক নাগরিকরা নিহত হতে পারে—এমন পরিস্থিতি বোঝাতে কৌশলে বা প্রচ্ছন্নভাবে এই শব্দটি ব্যবহার করা হয়।
এতে সাক্ষ্য দেওয়া কর্মকর্তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। তাদের দাবি, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার করে হামাসের কথিত নিম্নপদস্থ সদস্যদের শনাক্ত করত এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের বাড়িতে রাতের বেলায় হামলা চালানো হতো—পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারাবেন জেনেও।
সাক্ষ্য অনুযায়ী, লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে হামাস সদস্যদের ফোন হ্যাক করে অবস্থান নির্ণয় এবং পরিবারের সদস্যদের কথোপকথন নজরদারির মতো পদ্ধতিও ব্যবহার করা হয়েছে। ইসরাইলি সেনাবাহিনী হামলার ঠিক আগ মুহূর্তে স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে তাদের কথোপকথন গোপনে আড়ি পেতে শুনত।
তথ্যচিত্রে বেসামরিক বাড়িঘর ধ্বংস, আবাসিক এলাকায় আগুন দেওয়া এবং খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের হত্যার কথাও উঠে এসেছে।

নির্মাতারা বলেছেন, প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণের উদ্দেশ্য বিচ্ছিন্ন কোনো ‘যুদ্ধাপরাধী’ সেনাকে দায়ী করা নয়; বরং বেসামরিক হত্যাকাণ্ডকে সম্ভব করে তোলা সামরিক নির্দেশ, নীতি, প্রচলিত আচরণ ও ব্যবস্থাগুলোকে সামনে আনা।
আব্রাহাম বলেন, ২৪ জনের সাক্ষ্য একত্র করে তারা গাজায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা সামরিক কাঠামো ও ব্যবস্থাগুলো তুলে ধরেছেন। ছবিটি নির্মাণে প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার ভেনিসে এক সংবাদ সম্মেলনে আব্রাহাম বলেন, ‘কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েকজন কোনো অনুশোচনাই প্রকাশ করেননি, আবার কেউ কেউ তা করেছেন। কেউ কথা বলেছেন উদাসীনতা থেকে, আবার কেউ গর্বের সঙ্গে।’
ভেনিসে প্রদর্শনের পর ‘নাজা’ প্রায় ২৫ মিনিটের দীর্ঘ করতালি পায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ছবিটি নির্মাণে ‘দ্য জোন অব ইন্টারেস্ট’-এর প্রযোজক দলের সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন।
‘নাজা’ নির্মিত হয়েছে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরাইলি-ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম ও অন্যান্য অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে। নির্মাতাদের আগের ছবি ‘নো আদার ল্যান্ড’ ২০২৫ সালে সেরা তথ্যচিত্রের অস্কার জিতেছিল।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


