গত দুই বছর ভারতের শেয়ারবাজারের প্রবৃদ্ধির পারদ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশটিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ এবং প্রতিযোগী চীনের অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যে বিদেশিদের জন্য সুযোগ সীমিত করা অনেকটাই যেন শাপে বর হয়েছিল দেশটির জন্য। কিন্তু ভারতীয় বাজারের এই দ্যুতি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে অনেকটাই কমে এসেছে। অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতি জি-২০ অর্থনীতিভুক্ত দেশটির অর্থনৈতিক ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে।
গত অক্টোবরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা স্থানীয় বিনিয়োগের প্রায় ১১.২ বিলিয়ন ডলার শেয়ার বিক্রি করে চলে গেছে, যা দেশটিতে মাসিক দর পতনের রেকর্ড। নভেম্বরেও আরও ২.৫ বিলিয়ন ডলার বেরিয়ে গেছে ভারতের শেয়ারবাজার থেকে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এর জন্য বিভিন্ন প্রভাবক রয়েছে। সম্প্রতি চীন বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে বেশকিছু বিনিয়োগকারী ভারত থেকে তাদের শেয়ার বিক্রি করে সেখানে চলে যায়। এছাড়া ভারতের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করার ক্ষেত্রে নানা ধরনের হয়রানির শিকারও হতে হয় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের।
বিনিয়োগ সংস্থা ম্যাককিউর ক্যাপিটালের ভারতীয় শেয়ারবাজার গবেষণার প্রধান আদিত্য সুরেশ বলেন, ‘বাণিজ্যে যে ভাটা এসেছে তা স্পষ্ট। তবে প্রশ্ন হলো লোকজন কত দিন এই অবস্থায় মাটি কামড়ে পড়ে থাকবে?’
করোনাভাইরাস মহামারির সময় থেকে ভারতীয় অর্থনীতির গতিশীলতায় আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল। আমেরিকার কোম্পানি ফ্রাঙ্কলিন টেম্পলেটন ২০২৩ সালে বিশ্বের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর দেশটিকে ‘পরবর্তী চীন’ হিসেবে উল্লেখ করে। মর্গান স্ট্যানলি বিশ্ব অর্থনীতি ভবিষ্যতে ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। যা ‘ভারতীয় দশক’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। কোম্পানিটি বলেছিল, অফশোর, নির্মাণ, নবায়নযোগ্য অর্থনীতি ও উন্নত ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে ভারতে এক বিশাল অর্থনীতির বিকাশ ঘটছে।
কিন্তু ভারত তার সুযোগ হারিয়েছে। ভারতের জিডিপির উদ্বৃত্ত গত সেপ্টেম্বরে মাত্র ৫.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত দুই বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নভেম্বরে ভারতের কেন্দ্রীয় রিজার্ভ ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য দেশটির উদ্বৃত্তের পূর্বাভাস ৭.২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬.৬ শতাংশে নামিয়ে এনেছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ প্রচারণার লক্ষ্যে থাকা ভারতের খনি ও নির্মাণ শিল্পের উৎপাদন কমে এসেছে।
ম্যাককিউরের বিশ্লেষক ভারতীয় অর্থনীতিতে ভাটার পেছনে অনেক কারণ নির্দেশ করেন। এর মধ্যে নির্বাচনের বছরে দুর্বল এক সরকার পরিচালনা, বছরজুড়ে বিভিন্ন অবকাঠামো পরিচালনা এবং ভয়াবহ মৌসুমি বৃষ্টিপাত দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে ভারতের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়ও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরই সঙ্গে বিভিন্ন অনিরাপদ ঋণ ও রিটেইল ক্রেডিটের বিরুদ্ধে দেশটির সেন্ট্রাল ব্যাংকের অভিযানেও মানুষের হাতে অর্থ কমে গেছে। জীবনযাপনের প্রয়োজনে অনেক পরিবারই তাদের জমানো অর্থ খরচ করে ফেলছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

