আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইরান আক্রমণের পক্ষে ওয়াশিংটনের অদ্ভুত যুক্তি

রুবিনা আক্তার

ইরান আক্রমণের পক্ষে ওয়াশিংটনের অদ্ভুত যুক্তি
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানে ইসরাইল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার ছয়দিন পরও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেন যুদ্ধ শুরু করেছিলেন এবং এই যুদ্ধ থেকে কী অর্জন করতে চান, সে বিষয়টি এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর সময় তিনি ও তার সহযোগীরা যেসব যুক্তি দিচ্ছিলেন, পরবর্তী সময়ে তা পাল্টে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসন প্রথমে বলেছিল, তাদের লক্ষ্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করা। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘ইরান যেন কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে’ এটা নিশ্চিত করা হবে। কিন্তু এরপরের সময়গুলোতে সে যুক্তি বদলে গেছে।

হামলার পক্ষে ট্রাম্প প্রথম বলেছিলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ধ্বংস করতে হবে। তারা কোনোভাবেই পরমাণু শক্তিধর হতে পারবে না। এরপর বললেন, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত সোমবার হোয়াইট হাউসে তার প্রথম ভাষণে ট্রাম্প কিছু পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা; নৌবাহিনী, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির ক্ষমতা এবং এই অঞ্চলে প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোকে নির্মূল করতে চাইছে। তিনি যুক্তি দিয়েছিলেন, যুদ্ধের বৃহত্তর উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ইরানের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা।

কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে অথবা কেন তিনি বিশ্বাস করেন যে এই অভিযান সম্পন্ন হলে দেশটি আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে না, সে সম্পর্কে ট্রাম্প কিছুই উল্লেখ করেননি।

সোমবারের এ বক্তব্য আক্রমণ শুরু করার পর ট্রাম্পের প্রাথমিক মন্তব্য থেকে অনেকটাই সরে এসেছে। শনিবার ট্রাম্প ইরানিদের বলেছিলেন, ‘শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন করে তাদের হাতে ইরানের নেতৃত্ব’ তুলে দেবেন। তবে খামেনি নিহত হলেও, উত্তরাধিকার হিসেবে তার কাকে পছন্দ, তা এখনো স্পষ্ট করে বলেননি। ট্রাম্পের অবস্থান মাঝে মাঝে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথসহ অন্যান্য শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গেও মিলছে না।

হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টা আগে সোমবার প্রতিররক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা উৎখাত যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ছিল না। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলার লক্ষ্য শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা নয়। তবে তিনি স্বীকার করেন, হামলার ফলে দেশটির নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। এটি কোনো তথাকথিত শাসনব্যস্থা পরিবর্তনের যুদ্ধ নয়, কিন্তু শাসনব্যবস্থা নিশ্চিতভাবেই বদলে গেছে এবং এর ফলে বিশ্ব এখন আরো নিরাপদ হয়েছে।’

এরপর ইরানে হামলা চালানো নিয়ে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরানে হামলার বিষয়ে সংকল্পবদ্ধ ছিল ইসরাইল এবং একবার দেশটিতে হামলা হলে নিশ্চিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তেহরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে। সেই চিন্তা থেকে ট্রাম্প প্রশাসন আগেই দেশটিতে হামলা করেছে।

ইরানের হামলা নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, কারণ মিশন সফল করার জন্য এটি ছিল অনন্য সুযোগ।’

এদিকে, ইরানে বিমান অভিযানের বাইরে বিস্তারিত বা স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাব মার্কিন কংগ্রেসে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বেশিরভাগ রিপাবলিকান প্রকাশ্যে ট্রাম্পের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। কিন্তু ডেমোক্র্যাটরা যুক্তি দিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। তারা সতর্ক করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের মধ্যে পড়তে পারে।

ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য অ্যাডাম স্মিথ সোমবার এনপিআরকে বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন এখনো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি কোথায় ছিল, সে সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য জানায়নি।’

তিনি বলেন, আমরা কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য দেখিনি। তাই আমি মনে করি না, ইরান থেকে আসন্ন হুমকি আসার কোনো বিশ্বাসযোগ্য দাবি আছে।

গত মঙ্গলবার সিনেট শুনানিতে আন্ডার সেক্রেটারি অব ডিফেন্স এলব্রিজ কলবিকে জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল এবং ইরানে হামলার ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন করেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ যুদ্ধ’ শুরু করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার মতে, শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের এই যুদ্ধ শুধু অসাংবিধানিকই নয়, সেইসঙ্গে বিপজ্জনকও বটে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সংবিধান অনুযায়ী কে যুদ্ধ ঘোষণা করেন- প্রেসিডেন্ট নাকি কংগ্রেস? জবাবে কলবি জানান, ‘সংবিধান অনুযায়ী যুদ্ধ ঘোষণা করবে কংগ্রেস।’

আর ইরানে যুদ্ধে যাওয়ার বিষয়ে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চান ডেমোক্র্যাট সিনেটর অ্যাঙ্গাস কিং। জবাবে কলবি বলেন, ইরান দ্রুতগতিতে ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করছিল। হুমকি স্পষ্ট ছিল বলেই হামলা করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর প্রভাবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সত্য কথা বলেছেন।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...