লেবাননে ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস গ্রামের পর গ্রাম

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

লেবাননে ইসরাইলের হামলায় ধ্বংস গ্রামের পর গ্রাম
ছবি : সংগৃহীত

আমেরিকার সঙ্গে মিলে ইসরাইল যখন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে আগ্রাসন শুরু করে, ঠিক একই সময় উত্তর সীমান্তে লেবাননেও হামলা জোরদার করে তেল আবিব। বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে সবকিছুই বোমা হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দিতে থাকে তারা। দক্ষিণ লেবাননে গ্রামের পর গ্রাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

গার্ডিয়ান ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা তিনটি ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে। ইসরাইল-লেবানন সীমান্তের তাইবা, নাকুরা ও দাইর সারইয়ান- এ তিন গ্রামের ওই ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, ইসরাইলি সেনারা পুরো গ্রামজুড়ে বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে। লেবাননের সংবাদমাধ্যমে এ ধরনের আরো ঘটনার খবর জানানো হয়েছে। তবে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে এগুলো নিশ্চিত করা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজের এক ঘোষণার পরই এ ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়। ওই ঘোষণায় তিনি গাজার রাফাহ ও বাইত হানুনের মতোই ইসরাইল সীমান্তে লেবাননের সবগুলো বাড়ি ধ্বংসের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে উত্তর ইসরাইলে যেকোনো হুমকিকে রোধ করা সম্ভব হবে। দক্ষিণ গাজার রাফার ৯০ শতাংশ বাড়িই ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ধ্বংস করে দিয়েছে।

গাজায় ইসরাইলের ব্যাপক হারে ঘরবাড়ি ধ্বংসকে একাডেমিকরা ‘ডোমিসাইড’ (নির্বিচারে ধ্বংসযজ্ঞ) হিসেবে বর্ণনা করছেন। এ কৌশলের মাধ্যমে কোনো অঞ্চলকে পরিপূর্ণভাবে বসবাসের অনুপোযোগী করে তোলা হয়।

ইসরাইলি সামরিক বাহিনী বলছে, তারা হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ, সামরিক ঘাঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। তারা দাবি করছে, লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠনটি বেসামরিক বসতি দখল করে তাদের তৎপরতা চালাচ্ছে।

ইসরাইলের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিপুল পরিমাণ জায়গা দখল করে ‘সিকিউরিটি জোন’ প্রতিষ্ঠা করবে। ইসরাইল সীমান্ত থেকে লিতানি নদীর দক্ষিণ পর্যন্ত পুরো অঞ্চলে প্রতিষ্ঠিত এ সিকিউরিটি জোনে বসবাস করা উদ্বাস্তু কাউকে আর এখানে ফিরতে দেওয়া হবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হয়।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এর মাধ্যমে কোনো কারণ ছাড়াই স্বেচ্ছায় ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে, যা যুদ্ধাপরাধ। যুদ্ধের আইনে নির্বিচারে বেসামরিক স্থাপনা ধ্বংসের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, যদি না বৈধ সামরিক কারণ উপস্থিত না হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের গবেষক রামজি কায়েস বলেন, ‘হিজবুল্লাহর লেবানন সীমান্তের কিছু গ্রামের বেসামরিক স্থাপনা ব্যবহারের সম্ভাবনায় সীমান্তের পুরো গ্রাম ধ্বংস করার যৌক্তিকতা নেই।’ সূত্র: গার্ডিয়ান

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন