তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, জাতীয়তাবাদী রাজনীতি রূপান্তরের প্রধান কারিগর ছিলেন মশিউর রহমান যাদু মিয়া। সমাজের অন্যান্য নেতারা যত ভালো চিন্তাই করুন না কেন, সমসাময়িক কালের দুঃশাসনের প্রতিবাদসহ ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করার মতো দূরদর্শিতা ছিল তার মধ্যে।
তিনি বলেন, যাদু মিয়ার এমন দূরদর্শিতা ছিল বলেই একজন সামরিক কর্মকর্তাকে রাজনৈতিক নেতায় রূপান্তরিত করার দায়িত্ব তিনি গ্রহণ করেছিলেন এবং তিনি তা পেরেছিলেন।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মশিউর রহমান যাদু মিয়া স্মৃতি জাতীয় কমিটি আয়োজিত মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ১০২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় হাতে গোনা কয়েকজনকে পাকিস্তান সরকার কারাগারে বন্দি করেছিল, তার মধ্যে যাদু মিয়া ছিলেন একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে, স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে এবং ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তিনি অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। এই সময়টাতে বাংলাদেশে কী পরিস্থিতি ছিল, তা আমরা জানি।
তিনি বলেন, ১৯৭৫-পরবর্তী সময়ে যে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল, তাতে বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলই দিকভ্রান্ত ও কর্তব্যবিমূঢ়তার মধ্যে পড়েছিল।
আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়া বাংলাদেশের রাজনীতির একজন ‘জাদুকর’ ছিলেন। দেশের রাজনীতি নির্ধারণে তার মতো মানুষ এ ভূখণ্ডে খুব কম ছিলেন।
দুদু বলেন, মশিউর রহমান যাদু মিয়া দেশের রাজনীতির একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন। আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে একটি শক্তিশালী দল, নেতৃত্ব ও সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। সেই চিন্তা থেকেই তিনি শহীদ জিয়াউর রহমানকে সামনে এনে জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক ধারার ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।
দুদু বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতি নির্ধারণে যাদু মিয়ার মতো মানুষের সংখ্যা খুবই কম। তিনি যা ভাবতেন, দেশের বাস্তবতায় তা বাস্তব রূপ দেওয়ার সক্ষমতা, বিচক্ষণতা ও নেতৃত্ব তার মধ্যে ছিল।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট ছড়াকার আবু সালেহ, জ্যেষ্ঠ শিক্ষাবিদ ড. মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সভাপতি শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, সাংবাদিক গাজীউল হাসান খান প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

