সংযুক্ত আরব আমিরাতে অর্থ স্থানান্তরে বিলম্ব বা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ফলে এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র দুই দেশের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যে নতুন তিক্ততা প্রকাশ হয়েছে।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, সৌদি ব্যাংক থেকে আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কোনো অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর সম্ভব হচ্ছে না। চলতি বছরের মে মাস থেকেই তা স্থগিত হয়ে আছে বা ফেরত পাঠানো হয়েছে। অবশ্য এ বিষয়ে সৌদি আরবের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস যোগাযোগ করলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এ ধরনের কোনো ‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ’ করার তথ্য অস্বীকার করে।
চলতি বছরের শুরু থেকে পারস্য উপসাগরীয় দেশ দুটির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। ঐতিহ্যগতভাবে মিত্র হলেও বিভিন্ন ইস্যুতে রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যে সম্পর্কের তিক্ততা শুরু হয়। মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়েছে আমিরাত। অপরদিকে বিভিন্ন প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইসরাইলকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি সৌদি আরব। এছাড়া সোমালিয়া, সুদান ও ইয়েমেনে রিয়াদের নীতির বাইরে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী ভিন্ন গোষ্ঠীকে সমর্থন দিয়েছে আবুধাবি।
আরব বিশ্বের মধ্যে দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি আরবের জিডিপি এক লাখ ২০ হাজার কোটি ডলার। অপরদিকে আমিরাতের জিডিপি ৫৫ হাজার কোটি ডলার। দেশ দুটির মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্য দুই হাজার কোটি ডলারের।
বছরের পর বছর ধরে সৌদি বাজার পরিচালনা করতে দুবাইকে কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করেছে বিভিন্ন কোম্পানি। কিন্তু রিয়াদ অনেক দিন থেকেই এ কোম্পানিগুলোর দপ্তর সৌদি আরবে নিয়ে আসতে চাপ দেয়, যাতে দেশটির ব্যবসা, চাকরি ও বিনিয়োগ অভ্যন্তরীণভাবেই পরিচালিত হয়।
মিডল ইস্ট আইকে আমেরিকার থিংক ট্যাংক বেকার ইনস্টিটিউটের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ফেলো ক্রিস্টিয়ান কোয়াটস উলরিকসেন বলেন, ‘দুপক্ষের মধ্যে সব সময়ই অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা ছিল এবং এ ধরনের ব্যবস্থাপনা এটিই প্রথমবারের মতো নয়।’
গত ডিসেম্বরে রিয়াদ যখন ইয়েমেনে সৌদি সমর্থিত বাহিনীকে আক্রমণকারী বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে সহায়তা দেওয়ার জন্য আবুধাবিকে অভিযুক্ত করে, উত্তেজনা তখন নতুন মাত্রায় পৌঁছায়। এর মধ্যে আমিরাতের ইয়েমেনি মিত্রদের ওপর সৌদির হামলার পর আবুধাবি ইয়েমেন থেকে তার সামরিক শক্তি প্রত্যাহার করে নেয়।
২০১৫ সালে ইয়েমেনের কেন্দ্রীয় সরকারের সমর্থনে হুথি যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বের যে জোট যুদ্ধ শুরু করে, তাতে আমিরাত ছিল গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। হাজার হাজার ইয়েমেনি এ যুদ্ধে নিহত হলেও এর মাধ্যমে হুথিদের দমন করা সম্ভব হয়নি।
ইয়েমেনে দুই দেশের বিরোধের মাধ্যমে বাণিজ্য, তেলনীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে তাদের পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা প্রকাশ্যে আসে। যদিও ইরানে আমেরিকা-ইসরাইলের আগ্রাসনের জবাবে উপসাগরীয় দেশগুলোয় তেহরানের হামলায় দুই দেশের বিরোধ সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত ছিল।
ক্রিস্টিয়ান উলরিকসেন বলেন, ‘উত্তেজনা কখনোই সম্পূর্ণভাবে চলে যায়নি কিন্তু উপসাগরীয় দেশগুলোয় ইরানের হামলার জেরে তা পরিস্থিতির গুরুত্বের কারণে মিলিয়ে গিয়েছিল।’
চলতি বছরের শুরুতে সৌদি নেতৃত্বের তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোর সংস্থা ওপেক থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দেয় আমিরাত, যা প্রতিবেশীদের স্তব্ধ করে। আবুধাবির পক্ষ থেকে বলা হয়, নিজেদের অর্থনৈতিক ভিশন ও বিবর্তিত জ্বালানি পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এ পদক্ষেপকে সৌদি আরবের জন্য বড় আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


গাজা ইস্যুতে ক্ষমা চাইলেন যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম
খামেনির দাফন অনুষ্ঠানে অংশ নেন সাড়ে ৪ কোটি মানুষ