যুক্তরাজ্যে ভাগ্য নির্ধারণী নির্বাচনে জয় চাইছেন স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বী

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাজ্যে ভাগ্য নির্ধারণী নির্বাচনে জয় চাইছেন স্টারমারের প্রতিদ্বন্দ্বী

ব্রিটেনে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় নির্বাচন। এর ফলাফল লেবার পার্টির নেতা কেয়ার স্টারমারের চাপে থাকা প্রধানমন্ত্রিত্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। আবার এটি তাকে সাময়িক স্বস্তিও এনে দিতে পারে।

বিজ্ঞাপন

লেবার পার্টির প্রবীণ নেতা ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম এই নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে লড়ছেন। জয়ী হলে তিনি সংসদে ফিরে স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার চেষ্টা করবেন। যুক্তরাজ্যের অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ড থেকে বার্তা সংস্থা এএফ পি এ খবর জানিয়েছে।

জনমত জরিপে মেকারফিল্ড আসনের এই ঐতিহাসিক এই নির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। তবে তাকে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হচ্ছে কট্টর ডানপন্থী রিফর্ম ইউকে পার্টির কাছ থেকে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক জন কার্টিস বলেন, ‘বার্নহ্যাম প্রধানমন্ত্রী হবেন কি না, তা প্রায় নিশ্চিতভাবেই এখন মেকারফিল্ডের ভোটারদের হাতে।’

তিনি এএফপিকে বলেন, ‘বার্নহ্যাম জিতলে ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে পৌঁছানোর পথ তার জন্য অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যাবে। আর ভোটাররা যদি তাকে সেই সুযোগ না দেন, তাহলে আপাতত স্টারমার টিকে যেতে পারেন।’

২০২৪ সালের জুলাই থেকে ক্ষমতায় থাকা স্টারমার গত মাসে স্থানীয় ও আঞ্চলিক নির্বাচনে লেবার পার্টির বড় পরাজয়ের পর থেকেই কঠিন চাপে আছেন।

নীতিগত বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসা এবং সাবেক জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী পিটার ম্যান্ডেলসনকে ওয়াশিংটনে যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত নিয়োগ দেওয়া নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কও তাকে বিব্রত করেছে।

৬৩ বছর বয়সী এই প্রধানমন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রীর পদত্যাগের মুখে পড়তে হয়েছে। ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার জরিপেও তার অবস্থান তলানিতে নেমেছে। অন্যদিকে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় জরিপে এগিয়ে রয়েছে রিফর্ম ইউকে।

তবে সাবেক আইনজীবী স্টারমার পদত্যাগ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

তার দাবি, ২১ মাস আগে কনজারভেটিভদের বিরুদ্ধে পাওয়া বিপুল নির্বাচনী জয় তাকে পাঁচ বছরের জন্য শাসনের গণরায় দিয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। রাত ১০টায় ভোট শেষ হবে। এরপরই গণনা শুরু হবে।

অ্যাশটন-ইন-মেকারফিল্ডের ৬১ বছর বয়সী হ্যাজেল এলিস এএফপিকে বলেন, তিনি রিফর্ম ইউকে-কে ভোট দেবেন।

তিনি বলেন, ‘আমি তাদের একটি সুযোগ দিতে চাই। কারণ এখন এটাই ব্রিটেনের শেষ আশা।’

-অভিষেক নাকি অনিশ্চয়তা?-

কাছের ব্রিন এলাকার ২৩ বছর বয়সী ফিন নোলস এএফপিকে বলেন, স্টারমারের চেয়ে বার্নহ্যাম ‘ভালো বিকল্প।’

পাবকর্মী নোলস প্রধানমন্ত্রীর প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিনি আসলে কী করতে চান, সেটাই ঠিক জানেন না।’

জরিপ অনুযায়ী, বার্নহ্যাম বর্তমানে লেবার পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনীতিক। তিনি দলের তথাকথিত সফট-লেফট বা মধ্যপন্থী-বাম অংশের প্রতিনিধি এবং স্টারমারের অপেক্ষাকৃত মধ্যপন্থী নেতৃত্বের প্রকাশ্য সমালোচক।

লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রার্থী হতে হলে সংসদ সদস্য হতে হয়। বার্নহ্যাম ২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এমপি ছিলেন।

নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা শুরু করতে লেবারের চার শতাধিক এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন প্রয়োজন। বার্নহ্যাম সহজেই সেই সমর্থন পেতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে স্টারমার জানিয়েছেন, এমন কোনো প্রতিযোগিতা হলে তিনি লড়বেন।

বার্নহ্যামের ঘনিষ্ঠদের আশা, স্টারমারের শীর্ষ মন্ত্রীরা তাকে সম্মানের সঙ্গে বিদায়ের একটি সময়সূচি ঘোষণা করতে রাজি করাতে পারবেন। এতে করে তিক্ত নেতৃত্বের লড়াই এড়ানো সম্ভব হবে।

বুধবার স্টারমার সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার চেষ্টা করে বলেন, তিনি চান বার্নহ্যাম তার সরকারে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করুন।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...