এখনই গরমে অস্থির? ৫ বছর পরে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

এখনই গরমে অস্থির? ৫ বছর পরে অবস্থা হবে আরো ভয়াবহ

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা আগামী পাঁচ বছরে রেকর্ডের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) ও যুক্তরাজ্যের মেট অফিস। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আর্কটিক অঞ্চলে উষ্ণতা বাড়বে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি গতিতে।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অন্তত এক বছরে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা সাময়িকভাবে প্রাক-শিল্প যুগের তুলনায় ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময়ে এমন একটি বছরও আসতে পারে, যখন তাপমাত্রা ২০২৪ সালের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৪ সাল ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর, যখন প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়েছিল।

যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের গবেষক মেলিসা সিব্রুক বলেন, জলবায়ু যে উষ্ণ হচ্ছে এবং বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে, সে বিষয়ে এখন স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বৈজ্ঞানিক তথ্য বলছে, বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে ধরে রাখার সুযোগ দ্রুত সংকুচিত হয়ে আসছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো এক বছরে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সীমা অতিক্রম করলেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ব্যর্থ হয়েছে এমনটি নয়। কারণ চুক্তিতে দীর্ঘমেয়াদি ২০ বছরের গড় তাপমাত্রাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে উত্তর গোলার্ধের আর্কটিক অঞ্চলের শীতকালীন তাপমাত্রা ১৯৯১-২০২০ সময়ের গড়ের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। এর ফলে বারেন্টস সাগর, বেরিং সাগর ও ওখোটস্ক সাগরে মার্চ মাসে সমুদ্রের বরফ দ্রুত গলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আর্কটিক অঞ্চলের উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং উত্তরাঞ্চলীয় দেশগুলোতে চরম আবহাওয়া আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ শীতে উত্তর গোলার্ধে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। বিশেষ করে উত্তর ইউরোপ, আলাস্কা, সাইবেরিয়া ও সাহেল অঞ্চলে মে থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে অ্যামাজন অঞ্চলে একই সময়ে শুষ্ক আবহাওয়া দেখা দিতে পারে।

এ ছাড়া চলতি বছরের শীতেই শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব শুরু হতে পারে, যা ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এই এল নিনো বৈশ্বিক তাপমাত্রাকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এল নিনো হলো মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যা সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস স্থায়ী হয়।

সূত্র: রয়টার্স

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন