দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনার খনিতে শতাধিক শ্রমিক নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দক্ষিণ আফ্রিকায় সোনার খনিতে শতাধিক শ্রমিক নিহত

দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পরিত্যক্ত সোনার খনিতে কয়েক মাস আটকে থাকার পর শতাধিক অবৈধ খনি শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। খনি শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করা সংস্থা মাইনিং অ্যাফেক্টেড কমিউনিটিস ইউনাইটেড ইন অ্যাকশন (ম্যাকুয়া) এ তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা বেশ কয়েকজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।

বিজ্ঞাপন

পরিত্যক্ত এই সোনার খনিটির অবস্থান দক্ষিণ আফ্রিকার রাজধানী জোহানেসবার্গ থেকে ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে স্টিলফন্টেইনের কাছে। স্থানীয়ভাবে ‘বাফেলসফন্টেইন’ সোনার খনি নামে পরিচিত এই খনিতে গত সোমবার থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করে সরকার। খাদটি দুই কিলোমিটার বা ১ দশমিক ২ মাইল গভীর হওয়ায় সেখান থেকে মানুষের পক্ষে ওপরে ওঠা অসম্ভব। এ অবস্থায় সেখানে আটকে পড়েছেন পাঁচ শতাধিক শ্রমিক। এ অভিযানে এ পর্যন্ত সাতজনকে ওপরে ওঠানো হয়েছে।

খনি শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্বকারী দলের মুখপাত্র সাবেলো মঙ্গুনি বলেন, উদ্ধার করা শ্রমিকের সঙ্গে একটি মোবাইল ফোন পাওয়া গেছে। সেখানে ধারণ করা দুটি ভিডিওতে দেখা গেছে, মাটির নিচে প্লাস্টিকে মোড়ানো বহু মৃতদেহ পড়ে আছে। এ থেকে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে মৃতের সংখ্যা শতাধিক হবে। সম্ভবত অনাহার কিংবা পানিশূন্যতায় মারা গেছেন তারা।

২০২৪ সালে দেশজুড়ে অবৈধ খনির বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে শ্রমিকরা এই খনিতে অবস্থান করছে। গত সপ্তাহে আদালত সরকারকে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেয়। ফলে সোমবার থেকে শুরু হয় অভিযান। পুলিশ জানিয়েছে, সোনার খনিটি পরিত্যক্ত হওয়ায় সেখানে প্রবেশ অবৈধ ছিল। তাই গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে তারা সেখান থেকে বের হতে চাচ্ছেন না।

সাবেলো মঙ্গুনি বলেন, উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত ৯টি মরদেহ ও ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। গত কয়েক মাসে এক হাজারেরও বেশি শ্রমিক বেরিয়ে এসেছেন এবং এখনও আটকে রয়েছেন শত শত শ্রমিক।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র জানিয়েছেন, জীবিত ও মৃত শ্রমিকদের প্রকৃত সংখ্যা এখনই বলা যাচ্ছে না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন