গাজায় দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর আহ্বান জানিয়েছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনিদের ‘অবিচ্ছেদ্য’ অধিকার এবং ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি।
সোমবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিতা হেরাথ বলেন, ‘গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনকে দ্রুত অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
গাজা ও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গাজা এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যা ঘটছে, তা আমাদের ব্যথিত করছে। আমরা ফিলিস্তিনিদের অবিচ্ছেদ্য অধিকার—যার মধ্যে আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারও অন্তর্ভুক্ত—তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানাই।’
ফিলিস্তিন সংকট সমাধানে ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে একটি সমাধানের পক্ষে কলম্বো রয়েছে বলেও জানান হেরাথ।
তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এমন একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আহ্বান জানাচ্ছি, যা ১৯৬৭-পূর্ব সীমান্তের মধ্যে ইসরায়েলের পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করবে।
গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে হেরাথ ‘সব পক্ষকে’ সেটি মেনে চলার আহ্বান জানান।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ক্রমেই বাড়তে থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সামনে এগিয়ে যাওয়ার ‘একমাত্র কার্যকর পথ’ হলো সংলাপ।
ভাষণে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বজুড়ে বেড়ে যাওয়া প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও কথা বলেন হেরাথ। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে সবচেয়ে কম অবদান রাখা অনুন্নত দেশগুলোই এর ক্রমবর্ধমান ক্ষতির মূল্য দিচ্ছে।
নেপাল ও চীনে সাম্প্রতিক আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং আরও হাজারো মানুষ নিখোঁজ হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।
‘জলবায়ু ন্যায়বিচারকে জরুরি বাস্তবতায় পরিণত করতে হবে’—বলেন শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সূত্র: আনাদোলু
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


