ইসরাইলি বিমান হামলায় আলি লারিজানির মৃত্যুর পর মোহাম্মদ বাকের জুলকাদরকে দেশের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের (এসএনএসসি) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে ইরান। মঙ্গলবার তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থার সবচেয়ে সংবেদনশীল পদগুলোর একটিতে জুলকাদরকে নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপ ও দেশের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদক সুহেইব আলাসা জুলকাদরকে ‘একজন গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) সাবেক শীর্ষ কমান্ডার এবং ২০২৩ সাল থেকে নীতিনির্ধারণ পরামর্শদাতা পরিষদের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা তাকে ইরানের নিরাপত্তা বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর গঠিত আইআরজিসির প্রথম প্রজন্মের সদস্য হিসেবে জুলকাদর ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন। তিনি আইআরজিসির জয়েন্ট স্টাফের প্রধান হিসেবে আট বছর এবং ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে আরো আট বছর দায়িত্ব পালন করেছেন।
আলাসা বলেন, ইরান লারিজানির জায়গায় এমন একজনকে নিয়োগ দিয়েছে, যিনি তার শূন্যতা পূরণ করতে সক্ষম। লারিজানি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির শাসনব্যবস্থায় অত্যন্ত অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফলে তার স্থলে কারও নিয়োগ সহজ ছিল না।
ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের পদটি বরাবরই সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির কার্যালয়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। ফলে এ পদে এমন একজন ব্যক্তিকে প্রয়োজন, যিনি নিরাপত্তা বিষয়ে দক্ষতার পাশাপাশি কৌশলগত বিষয়গুলো পরিচালনা করার সক্ষমতা রাখেন।
ইরানের কট্টরপন্থিরা মনে করেন, জোলঘাদর বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় লারিজানির তুলনায় বেশ উপযুক্ত। এ যুদ্ধ জুলকাদরকে বহুমুখী পরীক্ষার সম্মুখীন করেছে।
দেশজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। এসব হামলা দেশের ভেতর থেকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
সব মিলিয়ে ইরানের পরিস্থিতি এমন একটি জটিল রূপ ধারণ করেছে, যেখানে একদিকে বাহ্যিক সামরিক চাপ, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা— দুটিই একসঙ্গে বিদ্যমান। ফলে জুলকাদরকে এসব বিষয়ে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। এছাড়া আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে যেকোনো আলোচনায়ও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


তেলের দাম ১৫০ ডলারে পৌঁছালে বিশ্বব্যাপী মন্দা হবে
ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী, তবে তারা বলতে ভয় পাচ্ছে: ট্রাম্প