থাইল্যান্ডের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০২৪ সালে ৩৭ বছর বয়সে দায়িত্বগ্রহণ করেন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। টেলিকম বিলিয়নেয়ার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার কনিষ্ঠ কন্যা এবং সিনাওয়াত্রা পরিবারের চতুর্থ সদস্য হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন তিনি। গত ২০ বছরেরর বেশিরভাগ সময়ই তার পরিবার থাই সরকার নিয়ন্ত্রণ করেছে।
বাবার মতো বিপুল সম্পদের অধিকারী পেতংতার্নও। ৪০০ মিলিয়ন বা প্রায় চার হাজার ৮৯০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ তার, যার মধ্যে রয়েছে ২০০টিরও বেশি ডিজাইনার হ্যান্ডব্যাগ ও ৭৫টি বিলাসবহুল দামি ঘড়ি। হ্যান্ডব্যাগের মূল্য দুই মিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৭ কোটি টাকা। আর হাতঘড়ির দাম প্রায় পাঁচ মিলিয়ন ডলার বা ৫৭ কোটি টাকারও বেশি। দুটো মিলিয়ে দাম পড়ছে প্রায় ৮৫ কোটি টাকা।
এছাড়া ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন, জাপানসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে তার সম্পত্তি রয়েছে, রয়েছে বাসভবন। তার নগদ অর্থ ও আমানতের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি বিলিয়ন ডলার বা ৩৫৪ কোটি টাকারও বেশি।
দেশটির জাতীয় দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে তার এত বিশাল সম্পদের হিসাব দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার তিনি তার যাবতীয় সম্পদের তথ্য জানিয়েছেন।
বিভিন্ন ব্যবসায় পেতংতার্নের বিনিয়োগ রয়েছে প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি থাই বাথ, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় চার হাজার কোটি টাকা। এ মুহূর্তে থাই প্রধানমন্ত্রীর ঋণের পরিমাণ ৫০০ কোটি থাই বাথ, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক হাজার ৭৭৩ কোটি টাকার বেশি। ফলে ঋণের পরিমাণ বাদ দিলে পেতংতার্নের সম্পত্তির পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৯০ কোটি থাই বাথ, যা তিন হাজার ১৫৭ কোটি টাকারও বেশি।
থাই গণমাধ্যমে যে পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে, তা সঠিক বলে জানিয়েছে ফেউ থাই পার্টির এক প্রতিনিধি।পেতংতার্নের বিলাসবহুল সম্পত্তির এই ঘোষণা জনগণের মধ্যে আলোচনা তৈরি করেছে এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার প্রতি নতুন করে মনোযোগ এনেছে।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর বাবা সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন একসময় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যানচেস্টার সিটি ফুটবল ক্লাবের মালিক ছিলেন। তিনি টেলিকম ব্যবসায় জড়িত। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমাণ ২ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার, যা তাকে দেশটির শীর্ষ ১০ ধনীর একজন করে তুলেছে।
থাকসিন তার শিন কর্প টেলিযোগাযোগ সাম্রাজ্যের সম্পদ ব্যবহার করে রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে ওঠেন। অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নির্বাসনে থাকা বছরগুলোতে তার পরিবার প্রভাবশালী হয়ে ওঠে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

