আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আতঙ্কের ছায়ায় ভারতে বড়দিন উদযাপন, একাধিক রাজ্যে হুমকির অভিযোগ

আতিকুর রহমান নগরী

আতঙ্কের ছায়ায় ভারতে বড়দিন উদযাপন, একাধিক রাজ্যে হুমকির অভিযোগ

ভারতের চার্চগুলোতে প্রার্থনার ভিড় ও শুভেচ্ছা বিনিময় চললেও, এবারের বড়দিন উদযাপন উৎসবের আবহের চেয়ে বেশি ভয়, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে বড়দিনের অনুষ্ঠানে বাধা, হামলা ও হুমকির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যা খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

অভিযোগগুলোতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-সংশ্লিষ্ট ও ডানপন্থী হিন্দু সংগঠনের সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। ছত্তিশগড়, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও কেরালাসহ একাধিক রাজ্যে চার্চ, প্রার্থনাসভা, ক্যারোল গানের অনুষ্ঠান ও বড়দিনের সাজসজ্জা লক্ষ্য করে এসব ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কোথাও কোথাও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় নেতারা সংবিধানিক অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ছত্তিশগড়ের রাজধানী রায়পুরে একটি শপিং মলে বড়দিনের সাজসজ্জা ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে মলের এক কর্মী জানান, হঠাৎ করে ৮০ থেকে ৯০ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে চিৎকার, হুমকি ও সহিংস আচরণ করে।

এদিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদ হিন্দুদের বড়দিন উদযাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে একে ‘সাংস্কৃতিক সচেতনতার জন্য হুমকি’ বলে মন্তব্য করেছে। সমালোচকদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য সমাজে বর্জন ও হয়রানির পরিবেশ তৈরি করছে।

কেরালায় ২১ ডিসেম্বর বড়দিনের ক্যারোল গাইতে বের হওয়া ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের একটি দলের ওপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের বাদ্যযন্ত্র ভেঙে দেওয়া হয়। পুলিশ আরএসএস-সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা আইনে মামলা করেছে। তবে বিজেপির এক রাজ্য নেতার ঘটনাটি নিয়ে করা মন্তব্য ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। দলের আরেক নেতার বক্তব্য—‘অশালীন হলে মার খাওয়াটা স্বাভাবিক’—নিয়ে অভিভাবক ও মানবাধিকারকর্মীরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

মধ্যপ্রদেশে পৃথক দুটি ঘটনায় এক বিজেপি জেলা নেতার বিরুদ্ধে প্রার্থনাসভায় অংশ নেওয়া এক দৃষ্টিহীন নারীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি চার্চে সমবেত খ্রিস্টানদের হয়রানির খবরও পাওয়া গেছে।

কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন এসব ঘটনাকে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী বলে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আরএসএস-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো স্কুল ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে বড়দিনের অনুষ্ঠান বাতিলে চাপ দিচ্ছে, যা সংবিধানবিরোধী।

সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...