ইরানি ড্রোন সামলাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইউক্রেনের সহায়তা চেয়েছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি জানান, ইতিমধ্যে সৌদি আরব ও কাতারসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশকিছু দেশে ইউক্রেনের বিশেষজ্ঞ দল অবস্থান করছে।
ফ্রান্সের প্রভাবশালী সংবাদপত্র ল্য মোঁদকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইরানি ড্রোনের আঘাত মোকাবিলায় ইউক্রেন এখন বিশ্বসেরা। যেহেতু রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে নিয়মিত ইরানি ড্রোন ব্যবহার করছে, তাই এই অস্ত্রের গতিপ্রকৃতি ও তা ধ্বংস করার কৌশল আমাদের বাহিনীর নখদর্পণে।
তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সুরক্ষা দিতে ওয়াশিংটন ইউক্রেনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।
জেলেনস্কি বলেন, প্যাট্রিয়ট বা থাডসহ মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে যে পরিমাণ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে, তা ইরানের ড্রোন হামলা পুরোপুরি রুখে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। ভারী ড্রোন হামলা মোকাবিলায় বিশেষ ধরনের আধুনিক ইন্টারসেপ্টর বা প্রতিরোধক প্রয়োজন। ইউক্রেনের কাছে থাকা নির্দিষ্ট কিছু সরঞ্জাম সেখানে সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এর বিনিময়ে জেলেনস্কি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছে একটি ‘উইন-উইন’ বা দ্বিপক্ষীয় সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউক্রেন চায় মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের কাছে থাকা এমন কিছু আকাশ প্রতিরক্ষা মিসাইল ইউক্রেনকে দিক। কিয়েভে এগুলোর অভাব আছে।
জেলেনস্কি আক্ষেপ করে বলেন, বর্তমানে তাদের সবচেয়ে বড় সংকট হলো অর্থ। ইউক্রেনের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প এখন সক্ষমতার মাত্র অর্ধেক ব্যবহার করছে। ড্রোনের উৎপাদন বাড়াতে তাদের প্রচুর অর্থায়ন প্রয়োজন।
জেলেনস্কি আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে এই সামরিক সহযোগিতার ফলে ইউক্রেন নিজেও সামরিকভাবে শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ পাবে। তিনি মনে করেন, এই অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সঠিক চুক্তিতে পৌঁছাতে পারলে উভয় পক্ষই উপকৃত হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

