সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি মোকাবিলায় আরো জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব পাস করেছে জাতিসংঘ। বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও বরফের চাদর ও হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে সৃষ্ট এ সংকট নিচু দ্বীপদেশগুলোর অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
২০২৪ সালে বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা প্রায় ৬ মিলিমিটার বেড়েছে। এক বছরে এটাই এ পর্যন্ত রেকর্ড করা সর্বোচ্চ বৃদ্ধি। বড় ধরনের পদক্ষেপ না নিলে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিটার বা তারও বেশি বাড়তে পারে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মিলিমিটারে মাপা হয়। কিন্তু এর ক্ষয়ক্ষতি মাপা হয় লাখ লাখ মানুষের জীবন বিপর্যস্ত হওয়া, জনপদ উচ্ছেদ এবং ভবিষ্যৎ হারানোর মধ্য দিয়ে।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশ ও সংস্কৃতিগুলোকে ঢেউয়ের নিচে হারিয়ে যেতে দিতে পারি না। কোটি কোটি মানুষের আকাঙ্ক্ষাকেও আমরা পানিতে ডুবে যেতে দিতে পারি না।’
সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় নতুন গতি সৃষ্টির লক্ষ্যেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এতে গ্রিনহাউজ গ্যাসের নিঃসরণ কমানো এবং ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোকে তাদের সহনশীলতা বাড়ানোর পরিকল্পনা জোরদারে অর্থায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি, সমুদ্রের ঢেউয়ের নিচে কোনো দেশ ধীরে ধীরে বিলীন হতে শুরু করলে কী হবে, সে-সংক্রান্ত আইনি বিষয়গুলোরও সমাধান করা হয়েছে।
ঘোষণায় বলা হয়েছে, উপকূলরেখা পিছিয়ে গেলেও সামুদ্রিক সীমানা বহাল থাকবে। একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এর কোনো একটি মৌলিক উপাদান বিলীন হয়ে গেলেই যে রাষ্ট্রের মর্যাদা হারাতে হবে, তা নয়।
ছোট দ্বীপদেশগুলোর জোট অ্যালায়েন্স অব স্মল আইল্যান্ড স্টেটসের পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সময় পালাউয়ের প্রেসিডেন্ট সুরাঙ্গেল হুইপস জুনিয়র বলেন, ‘আমাদের চারপাশের সমুদ্রই যেসব রাষ্ট্রের অস্তিত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে, তাদের জন্য সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি জীবন বদলে দেওয়ার মতো প্রভাব ফেলবে।’
তিনি বলেন, ছোট দ্বীপদেশগুলো ১৯৮৯ সালের ‘মালে ঘোষণার’ পর থেকেই বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। তারা এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক আইন প্রণয়নেও ভূমিকা রেখেছে। তিনি এই ঘোষণাকে ‘একটি সত্যিকারের অর্জন’ হিসেবে স্বাগত জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

