ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে মঙ্গলবার ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বের ২০টি দেশ ইতোমধ্যে এ ধরনের আইন প্রস্তাব করেছে বা কার্যকর করেছে।
এএফপির হিসাব অনুযায়ী, এর মধ্যে পাঁচটি দেশে বিধিনিষেধ ইতোমধ্যেই কার্যকর হয়েছে। প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
বিভিন্ন দেশের নেওয়া পদক্ষেপের চিত্র নিচে তুলে ধরা হলো।
যেখানে বিধিনিষেধ কার্যকর
অস্ট্রেলিয়ায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
ব্রাজিলে মার্চ মাসে একটি আইন করা হয়। এতে ১৬ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট তাদের অভিভাবকের অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত রাখা এবং ব্যবহারকারীদের বয়স যাচাই করা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চীনে, যেখানে ইন্টারনেটের ওপর রাষ্ট্রের কঠোর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে ২০১৯ সাল থেকে ধাপে ধাপে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
শুরুর দিকে অনলাইন গেমের জন্য সময়সীমা ও কারফিউ চালু করা হয়। পরে ২০২৩ সালে একই ধরণের বিধিনিষেধ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মেও সম্প্রসারণ করা হয়।
ইন্দোনেশিয়ায় মার্চ মাস থেকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ রয়েছে।
মালয়েশিয়াও একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। জুন মাসে কার্যকর হওয়া আইনের মাধ্যমে ১৬ বছরের কম বয়সীদের বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
তুরস্কও এ তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। এপ্রিল মাসে দেশটি ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন পাস করেছে। আইনটি ২০২৬ সালের শেষ দিকে কার্যকর হওয়ার কথা।
সংযুক্ত আরব আমিরাত গত মাসে ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। এটি প্রায় এক বছর পর কার্যকর হবে।
যেখানে বিধিনিষেধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে
২৭ সদস্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) চলতি বছরের শেষ দিকে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা এবং ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের জন্য ধাপে ধাপে প্রবেশাধিকার চালুর প্রস্তাব দিতে যাচ্ছে ইউরোপীয় কমিশন।
ইইউর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে গ্রিস সরকার এপ্রিলের শুরুতে ঘোষণা দেয়, তারা ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে চায়।
অস্ট্রিয়া ও স্লোভেনিয়াও যথাক্রমে ১৪ ও ১৫ বছরের কম বয়সীদের প্রবেশাধিকার নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
জার্মানিতে, যেখানে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার সীমিত করা বা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পক্ষে, সেখানে একটি বিশেষজ্ঞ কমিশন দুটি বিকল্প প্রস্তাব করেছে। একটি হলো বয়সভিত্তিক নিষেধাজ্ঞা, অন্যটি নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বিধিনিষেধ।
সুইডেনেও একই ধরণের বিতর্ক চলছে। দেশটির একটি সরকারি কমিশন ২০২৮ সালের শুরুর দিকে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে।
ডেনমার্ক সরকার ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঘোষণা দেয়, তারা ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘বেশ কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম’ নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব আনবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের সিদ্ধান্ত না এলে আইন প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে সতর্ক করেছে আয়ারল্যান্ড সরকার।
ইইউর বাইরে নরওয়ে সরকার বছরের শেষ নাগাদ ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করার বিল উপস্থাপন করবে।
যুক্তরাজ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের পরিকল্পিত উদ্যোগ অনুযায়ী ২০২৭ সালের শুরুর দিকে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
কানাডাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৬ বছর নির্ধারণ করতে চায়।
ভারতের কয়েকটি রাজ্য শিশুদের জন্য বিধিনিষেধ আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে। এ বিষয়ে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।
পার্লামেন্টে বিল
১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রস্তাব মঙ্গলবার ফ্রান্সের পার্লামেন্টে ভোটে ওঠার কথা রয়েছে। এর আগে দেশটির জাতীয় পরিষদ ও সিনেট একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।
জাতীয় পরিষদ জানুয়ারিতে প্রথম পাঠে বিলটি অনুমোদন করেছিল। পরে সিনেট এতে সংশোধনী এনে শুধু সবচেয়ে ক্ষতিকর প্ল্যাটফর্মগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে।
সরকার আশা করছে, আইনটি সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর করা যাবে। ডিজিটালবিষয়ক মন্ত্রী অ্যান লে হেনাফ বলেছেন, এর মাধ্যমে ফ্রান্স ইউরোপের প্রথম দেশ হবে, যারা ‘ডিজিটাল আইনি বয়সসীমা’ নির্ধারণ করবে।
পর্তুগালে একটি বিল বিবেচনাধীন রয়েছে। এতে প্ল্যাটফর্ম, সেবা, গেম ও অ্যাপ স্বতন্ত্রভাবে ব্যবহারের ন্যূনতম বয়স ১৬ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
স্পেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিবন্ধনের সর্বনিম্ন বয়স ১৪ থেকে বাড়িয়ে ১৬ বছর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইতালিতেও ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে পার্লামেন্টে একটি বিল বিবেচনাধীন রয়েছে।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


