পাকিস্তানে চলমান রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে বিরোধী দল পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ (পিটিআই)। এরই মধ্যে কারাবন্দি দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে পিটিআই দলীয় একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার রাওয়ালপিন্ডিতে আদিয়ালা জেলে ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই প্রতিনিধিদলটি।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানায়, প্রতিনিধিদলটি গত সোমবার সরকারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ইমরান খানকে অবহিত করেছে। একইসঙ্গে পরবর্তী আলোচনার বিষয়বস্তু নিয়ে প্রতিনিধিদলকে পরামর্শ দিয়েছেন ইমরান খান।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন পাকিস্তানের আইনসভা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সাবেক স্পিকার ও পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার, পিটিআই মিত্র দল সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাহিবজাদা হামিদ রাজা ও মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের চেয়ারম্যান আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জাফরি।
এর আগে পাকিস্তানের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের লক্ষ্যে গত ২৩ ডিসেম্বর রাজধানী ইসলামাবাদে পার্লামেন্ট ভবনে সরকারি দলের সঙ্গে প্রথম দফায় আলোচনায় বসেন পিটিআই ও মিত্র দলের প্রতিনিধিরা।
স্পিকার আয়াজ সদিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সরকার পক্ষের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার, প্রধানমন্ত্রী উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ, সিনেটর ইরফান সিদ্দিক, পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা রাজা পারভেজ আশরাফ, নাভিদত কামার এবং এমকিউএম-টি নেতা ফারুক সাত্তার অংশ নেন।
অপরদিকে সাবেক স্পিকার ও পিটিআই নেতা আসাদ কায়সার, সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সাহেবজাদা হামিদ রাজা এবং মজলিশ ওয়াহদাত-ই-মুসলিমিনের নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস জাফরি পিটিআইয়ের প্রতিনিধি হিসেবে বৈঠকে অংশ নেন।
আগামী ২ জানুয়ারি দুপক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে বুধবার ইমরান খানের এক্স অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে বলা হয়, আইনজীবীদের সঙ্গে এক সাক্ষাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী সরকারের সঙ্গে আলোচনাকারী প্রতিনিধিদলের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।
ইমরান খানের উদ্ধৃতি দিয়ে এতে বলা হয়, ‘আলোচনার প্রক্রিয়া অর্থপূর্ণ হওয়া নিশ্চিত করতে আলোচনাকারী দলের সঙ্গে তার যোগাযোগ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ, যাতে পুরো বিষয়টি সম্পর্কে তার স্পষ্ট ধারণা থাকে।’
এছাড়া পিটিআইএর প্রতিষ্ঠাতা এই নেতা বলেন, যদি কারাবন্দিদের মুক্তি এবং বিচারবিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করা হয়, তবে চলমান আন্দোলন স্থগিত করবে দলটি।
পোস্টে ইমরান খানের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘তবে আমি শঙ্কা করছি সরকার ৯ মে ও ২৬ নভেম্বরের ঘটনার তদন্তের বিষয়ে আমাদের দাবি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে। আমরা কখনোই এটি হতে দেব না।’
একইসঙ্গে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী সামরিক আদালতে বিচারের ‘অসাংবিধানিক সিদ্ধান্তকে’ প্রত্যাহারের দাবি জানান।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

